🕓 সংবাদ শিরোনাম

ময়মনসিংহ মেডিকেলে একদিনে মৃত্যু ১২, জেলায় নতুন আক্রান্ত ৪৪০ জনকুরবানীর মাংস রান্না করার সময় ভেসে উঠলো আল্লাহর নাম!ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ইলিশ, হাঁকডাকে সরগরম মৎস্যঘাটকেউ খোঁজ রাখেনি, পল্লী বিদ্যুতের তারে বিদ্যুতায়িত পাপেলের ভরসা এখন হুইল চেয়ারবগুড়ার শেরপুরে সাংবাদিকের বাড়ি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগজরুরি অবস্থা জারি করতে রাষ্ট্রপতির কাছে আইনজীবীর আবেদননোয়াখালথতে ঘরে আগুন দিয়ে নারীসহ ৩ জনকে পিটিয়ে আহত করেছে কিশোর গ্যাংওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করলেন কাদের মির্জাবগুড়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যাকক্সবাজারে ফের পাহাড় ধস, ঘুমন্ত অবস্থায় একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু

  • আজ বুধবার, ১৩ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৮ জুলাই, ২০২১ ৷

শাহজাদপুরে সরিষার বাম্পার ফলন, মাঠে মধু সংগ্রহের ধুম

Shadatpur news
❏ রবিবার, জানুয়ারী ১০, ২০২১ রাজশাহী

রাজিব আহমেদ রাসেল, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বিস্তির্ণ মাঠ জুড়ে এখন সরিষা ফুলে হলুদ রঙের অপরূপ দৃশ্য। প্রকৃতি সেজেছে হলুদ সমারোহে, মৌমাছি, প্রজাপতির অবিরাম খেলা গ্রামীণ জনপদকে আরো মনমুগ্ধ করেছে। চাষের সময় ও খরচ দুটোই কম হওয়ায় কৃষকের কাছে বেশ জনপ্রিয় সরিষা চাষ।

গত কয়েক বছরে নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের ফলে এ শস্যটির ফলনও আগের চেয়ে বেড়েছে। এ কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দিনে দিনে বাড়ছে সরিষার চাষ। গত বছর সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৪ হাজার ৯০ হেক্টর। দীর্ঘ বন্যার ফলে এ বছর ১১ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। বাজারে দাম ভালো থাকায় সরিষা চাষে আশার আলো দেখছে শাহজাদপুরের কৃষকেরা।

অন্যদিকে ভোজ্যতেলের আমদানির্ভরতা কমাতে সরিষাকে বিকল্প হিসেবে দেখছে সরকার। এজন্য ফসলটি উৎপাদন বাড়াতে নেয়া হয়েছে বড় প্রকল্প। ফসলের শ্রেণীবিন্যাসে পরিবর্তন এনে গতিশীল করা হচ্ছে সরিষার চাষ। আগমী পাঁচ বছরের মধ্য্য সরিষার উৎপাদন বাড়িয়ে দেশে ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, প্রচলিত দেশি সরিষার চেয়ে বারি ও বিনার উদ্ভাবিত সরিষার জাতগুলোর ফলন বেশি। এ কারণে চাষিরাও আগ্রহী হচ্ছেন সরিষা চাষে। অনেকেই আমন ধান সংগ্রহের পর জমি ফেলে না রেখে সরিষা চাষ করছেন। চাষিদের পদচারণায় প্রকৃতি যেমন সেজেছে ঠিক সেই সময় মেতে উঠেছে মধু সংগ্রহে মৌয়ালারা। সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে এসব জমির পাশে পোষা মৌমাছির শত শত বাক্স নিয়ে হাজির হয়েছেন এসব মৌয়ালরা। ওইসব বাক্স থেকে হাজার হাজার মৌমাছি বের হয়ে মধু সংগ্রহে ঘুরে বেড়াচ্ছে সরিষা ফুলের মাঠে। এই অপরূপ দৃশ্যে মুগ্ধ যেকোনো প্রকৃতিপ্রেমী মানুষকে আকৃষ্ট করে তোলে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নে ১১ হাজার হেক্টর বিভিন্ন ফসলি জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। এসব জমিতে সরিষার ফুল ফুটেছে আরো তিন সপ্তাহ আগেই। এসব ফুলের মধু সংগ্রহে নেমেছেন পেশাদার মৌয়ালরা। তাদের বাক্স থেকে দলে দলে উড়ে যাচ্ছে পোষা মৌমাছি, ঘুরে বেড়াচ্ছে ফুলে ফুলে। মুখভর্তি মধু সংগ্রহ করে মৌমাছিরা ফিরছে বাক্সে রাখা মৌচাকে। সেখানে সংগৃহীত মধু জমা করে আবার ফিরে যাচ্ছে সরিষা ক্ষেতে। এভাবে দিনব্যাপী মৌমছিরা যেমন মধু সংগ্রহ করে। ফুলে ফুলে ঘুরে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে পুরো জমির পরাগায়নেও সহায়তা করে। এ মৌসুমে মৌয়ালারা পোষা মৌমাছি দিয়ে প্রচুর মধু উৎপাদন করে যেমন লাভবান হচ্ছেন ঠিক তেমনি মৌমাছির ব্যাপক পরাগায়নে সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনায় চাষিরাও বাড়তি আয়ের আশা করছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মধু সংগ্রহের জন্য শাহজাদপুরে এসেছে ১০ টি মৌ-খামারী। এস‌এম‌ই প্রকল্পের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করছে ৬ জন খামারী।

এ উপজেলায় মোট ১৬ টি মৌ খামারে ১ হাজার ২৬২ টি মৌ-বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। গত বছর ১ হাজার ৬৩৬ টি মৌ-বাক্স থেকে মধু উৎপাদন হয়েছিল ৯ হাজার ১’শ ২০ কেজি। এ বছরে মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ মেঃ টন। চলতি মৌসুমে এ যাবৎ মধু উৎপাদন হয়েছে ৪ হাজার ২’শ কেজি।

শাহজাদপুরের বাড়াবিল মাঠে পোষা মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহে আসা পাবনার মুনজিল মৌয়াল জানান, তিনি প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও পোষা মৌমাছির ৭০ টি বাক্স নিয়ে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে শাহজাদপুর এসেছেন। তিনি এ বছর প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি মধু সংগ্রহ করতে পারছেন। এখানে সরিষার ফুল থেকে মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহ করে তিনি অধীক লাভবান হয়েছেন।

শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দস ছালাম বলেন, বোরো ধান রোপণের আগে একটি বাড়তি অর্থকরি ফসল হিসেবে সরিষার আবাদ করে শাহজাদপুরের কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। আবার ওইসব সরিষার ফুল থেকে পোষা মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহে লাভবান হচ্ছন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পেশাদার মৌয়ালরা। অন্য অঞ্চল থেকে আসা মৌ চাষিদের আমরা নিরাপত্তা সহ সকল রকম সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি‌। এই অঞ্চলে মৌ চাষ বৃদ্ধির জন্য অচিরেই একজন বিশেজ্ঞকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। তার মাধ্যেমে প্রত্যান্ত অঞ্চলের আগ্রহী মধু চাষিদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন