• আজ মঙ্গলবার, ১৯ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৩ আগস্ট, ২০২১ ৷

চাঁদপুরে মেঘনার পাড়ে পর্যটকদের ঢল

chadpur Tourist
❏ সোমবার, জানুয়ারী ১১, ২০২১ চট্টগ্রাম

মাহফুজুর রহমান, চাঁদপুর প্রতিনিধি: একদিকে মেঘনার কোমল পরশ, অন্যদিকে ঢেউয়ের শোঁ শোঁ গর্জন। নদীপাড়ে নৌ-যানে মানুষের গতিশীল জীবন আর শুয়ে-বসে সূর্যাস্ত-সূর্যোদয় দেখার অপরূপ দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে। আর রাতের বেলা নদী পাড়ের ব্লকে আছড়ে পড়া ঢেউ দেখলে মনে হবে যেন ছড়িয়ে আছে অসংখ্য রত্ন।

বিশাল আকাশের নিচে প্রকৃতির এক অপরুপ লীলাভূমি চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মোহনপুর যেন পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। প্রায় ৬০ একর জায়গা জুড়ে মেঘনার তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে এই পর্যটন কেন্দ্রটি। প্রতিদিন নদী এবং স্থলপথে শত শত পর্যটক ভিড় জমাতে শুরু করেছে এখানে।

বালুর মাঠজুড়ে প্রায় ১০০ টির মতো বিচ বেড বসানো হয়েছে এখানে। বেডের চতুর্দিকে ভ্রাম্যমাণ চটপটি-ফুচকা-হালিম,আচার,চকলেট, চা ও মুড়ি বিক্রেতারা ছোট ছোট নানান পসরা সাজিয়ে বসেছে। যেখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেচাবিক্রি চলতেই থাকে। সন্ধ‌্যার পর এখানে বিশেষ আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এখানে ডুকতেই বিশেষভাবে চোখে পড়বে নির্মানাধীণ জাহাজ আকৃতির বিশাল রেস্ট্রুরেন্টটি। বর্তমানে এখানে অবকাঠামো নির্মাণসহ সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলমান রয়েছে।

সিলেট থেকে এখানে এসেছেন প্লাবন রায়। জানিয়েছেন, এখানেই তার বাড়ি, তবে সিলেটে বড় হয়েছেন। জানতে পেরেছেন এখানে মেঘনার পাড়ে মনোরম পর্যটনের স্পট গড়ে উঠছে। তাই প্রথমবারের মতোই তিনি এখানে এসেছেন।

ঢাকা থেকে লঞ্চে ঘুরতে আসা ফ্রেন্ডস গ্রুপের রায়হান, হিমেল, সালমা ও মিম জানান, ‘মেঘনার পাড়ে বসে সূর্যদোয় ও সূর্যাস্ত দেখছি, মনে হয় কুয়াকাটা আছি। দুপুরে মেঘনায় গোসল আর বিকেলে নদীপাড়ে হাঁটা-হাঁটি, শুয়ে-বসে সত্যিই আমাদের মুগ্ধ করেছে। পরের ট্রিপে ফ্যামিলি সাথে নিয়ে আসার পরিকল্পনা আছে’।

মেঘনায় গোসলরত অনেকেই জানিয়েছেন, ‘দল বেধে আনন্দের সাথে গোসল করছি। তবে কিছুটা নিরাপত্তাহীনতা ও সংকোচবোধ করছি। কেননা এখানে টয়লেট বা ড্রেস চেঞ্জ করার মতো তেমন ভালো কোনো ব্যবস্থা পাইনি।’

তবে উদ্ধোধণের পরেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ আন্তর্জাতিক মানের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে বলে জানিয়েছেন মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্রের স্বপ্নদ্রষ্টা কাজী মিজানুর রহমান।

তিনি জানান, ‘এই কেন্দ্রটি গড়ার পিছনে এই অঞ্চলের মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থান করাসহ গ্রামকে শহরে রুপান্তিত করে প্রত্যন্ত এই অঞ্চলটি উন্নয়ন করাই ছিলো আমাদের লক্ষ্য। আমরা আমাদের স্বপ্ন পূরণের পথে আছি।

আগামী ২২ শে জানুয়ারী বিকেল ৩টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যায় ঘণ্টাব্যাপী আতশ বাজীর মাধ্যমে রাত ১১ টা পর্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাই দ্রুতগতিতে সব কাজ চলছে।

এখানে সেনাবাহিনীর সাবেক একজন মেজরের নেতৃত্বে ৪০ জন চৌকস সিকিউরিটি সার্ভিস গড়ে তোলা হবে। এখানে থাকবে সর্ববৃহৎ ইলিশ ভাষ্কর্য ফোয়ারা। যাতে করে দূর-দূরান্তের পর্যটকরা এখানে এসে ইলিশের বাড়িকে খুব কাছ থেকে অনুভব করতে পারবে। এছাড়াও সৌন্দর্যবর্ধনে পাউবোর কাছে কিছু জায়গা লিজের জন্য আবেদন করেছি। সেটি পেলে মনোরম রাস্তা ও বনায়নের কাজ শুরু হবে। আমরা সংশ্লিষ্টদের কাছে এখানে টুরিস্ট পুলিশ দেওয়ারও আবেদন জানাচ্ছি।’

পর্যটন কেন্দ্রটির দায়িত্বশীলরা জানান, ‘এখানে স্থলে ঘোরায় চড়া এবং নদীতে স্প্রিড বোটে ঘুরাঘুরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও নানান রকমের রাইড, পাবলিক টয়লেট, ড্রেস চেঞ্জের ব্যবস্থা, গাড়ি পার্কিং ইয়ার্ড সহ সেলফি জোনের ব্যবস্থা করা হবে। সুপরিসর গাড়ি পার্কিংয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ ওয়েল ইকুয়েভমেন্টের মাধ্যমে আরো থাকবে ৫টি পাঁচ তারকা কটেজ, ফুডকোর্ড, বার্মিজ, ঝিনুক এবং ফাস্টফুড আইটেমসহ মোট দেড়শ দোকানসহ মার্কেট, ২শ বেডরুমসহ তিন তারকা আবাসিক হোটেল, মিনি চিড়িয়াখানা ও ৩টি বিচ নির্মাণাধীন রয়েছে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সহ থাকবে নামাজের ব্যবস্থা। এছাড়াও পার্কে পিকনিকের জন্য থাকবে ৩টি স্পর্ট ডেকোরেটরের সুবিধা।

নির্মিত কটেজ থেকে দেখতে পাওয়া যাবে নদীপাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ওয়াটার পার্কে সর্বাধুনিক রাইডে চড়ে আনন্দ অনুভূতির সাথে ডিজে মিউজিকের ছন্দে এখানকার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে পারবে আগত পর্যটকরা। সব ঠিকঠাক থাকলে এটি হবে দেশের অন্যময় পর্যটন কেন্দ্র হবে। তখন হয়তো এখানে ঢুকতে গেলে ১০ বা ২০ টাকার মতো ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

এদিকে নতুন করে গড়ে ওঠা পর্যটন কেন্দ্রটিতে নতুন নতুন মানুষের পদচারণায় আনন্দিত স্থানীয়রা। কেন্দ্রটিতে আগত সকলকে যত্রতত্র উচ্ছিষ্ট না ফেলে সর্বদা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান তারা। জানান, আমরা চাই পর্যটকদের ভ্রমণ অনেক নিরাপদ হোক এবং তারা সুন্দর স্মৃতি নিয়ে এই মোহনপুর থেকে সাবধানে বাড়ি ফিরুক।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন