সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে এক পেট নিয়ে দুই শিশুর জন্ম!

◷ ১০:০৪ অপরাহ্ন ৷ সোমবার, জানুয়ারী ১১, ২০২১ রাজশাহী
babyy

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শরীর জোড়া লাগানো জমজ শিশু জন্ম দিলেন গৃহবধূ আঙ্গুরি বেগম (৩৫)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বিদিরপুর গ্রামের রুবেল হোসেনের (৪২) স্ত্রী।

হাত, পা, মাথা-সবই আলাদা। শুধু একটাই পেট। কোন পায়ুপথ নেই। এমন শারীরিক গঠন নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে জন্ম নিয়েছে দুই শিশু। দুই বাচ্চার একটি ছেলে। অন্যটি মেয়ে। আঙ্গুরি বেগমের স্বামী রুবেল একজন রুটির দোকানী।

শিশু দুটির এমন শারীরিক গঠন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। সোমবার ভোর ৫টার দিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু দুটির জন্ম হয়। তাদের এখনও কোন নাম রাখা হয়নি। দুপুর ২টার দিকে আঙ্গুরি বেগম ও তার দুই সন্তানকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেয়া হয়েছে। তারা গ্রামের বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে দুপুর ১টার দিকে তাদের হাসপাতালের গাইনি ইউনিট-২ এর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে পাওয়া গেছে। ওয়ার্ডের ২২ নম্বর বেডে আঙ্গুরি বেগম তখন ঘুমাচ্ছিলেন। শিশু দুটিকে কোলে নিয়ে বসেছিলেন তাদের নানি আনোয়ারা বেগম। তিনি কাঁদছিলেন। হাসপাতালে শিশু দুটিকে দেখতে অন্য রোগীর স্বজনেরা ভিড় করছিলেন। এসেছিলেন আত্মীয়-স্বজনদের অনেকেই।

বাবা রুবেল জানান, এর আগেও তার দুটি শিশু পুত্র হয়েছিলো (দুই পায়ের পাতা জন্মগতভাবে উল্টানো) প্রতিবন্ধী। এবার সন্তান প্রসবের পূর্বেই আলট্রাসনো রিপোর্ট দেখে জমজ ও ত্রুটিযুক্ত শিশুর কথা জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। জন্মের পর দেখা যায় শিশু দু’টির শরীর জোড়া লাগানো। তবে দেহের অন্য সকল অঙ্গ পৃথক। শিশু দু’টিকে সার্জারির চিকিৎসকরা দেখার পর ঢাকা নিয়ে গিয়ে অপারেশনের পরামর্শ দিয়েছেন। অপারেশনের মাধ্যমে শিশুদুটিকে পৃথক করা সম্ভব। তবে এই অপারেশন ব্যয়বহুল বলে জানান চিকিৎসকরা।

স্বজনেরা জানান, প্রসবের ব্যাথা শুরু হলে রোববার সন্ধ্যায় আঙ্গুরি বেগমকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি ক্লিনিকে নেয়া হয়। তখন আল্ট্রাসনোগ্রাম করে চিকিৎসক জানান, এখানে তার কিছুই করা সম্ভব না। তারা তাকে রামেক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। রাত ২টার সময় তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ভোরে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এ দুই শিশুর জন্ম হয়।

একই পেট নিয়ে দুটি জমজ বাচ্চার জন্ম হয়েছে। তাদের কোন পায়ুপথ নেই। পায়ুপথের জন্য সার্জারির প্রয়োজন। সে কারণে বাচ্চা দুটিকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যেতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস।