সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চাকরির দাবিতে এবার রাবি প্রশাসনিক ভবনেও তালা দিলো ছাত্রলীগ

◷ ১২:১৮ অপরাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১২, ২০২১ শিক্ষাঙ্গন
tala

সময়ের কণ্ঠস্বর, রাজশাহী- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে অবরোধ করেছে ‘চাকরি প্রত্যাশী’ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ফটকের সামনে অবস্থান নেন তারা। প্রশাসন ভবন তালাবদ্ধ করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে, গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনে তালা দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর আজ মঙ্গলবার সকালে উপাচার্যের বাসভবনের তালা খুলে দেওয়া হয়।

সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের গেটে তালা ঝোলানো। প্রবেশপথে অবস্থান করছেন চাকরি প্রত্যাশী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী প্রশাসন ভবনের (প্রশাসন ভবন ২) সামনে গিয়ে দেখা যায়, কর্মকতারা বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন।

কথা হয় ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনের সহকারী রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, চাকরি প্রত্যাশীরা গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। আমরা কর্মকর্তারা প্রায় ঘণ্টাখানেক এখানে অবস্থান করছি।

একই চিত্র দেখা যায়, সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রসাশন ভবনের সামনে। গেটে ২৫-৩০জন চাকরি প্রত্যাশী অবস্থান করছেন। প্রসাশন ভবনের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

উপাচার্যের বাসভবনের তালা দেওয়ার বিষয়ে আন্দোলনকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জানান, রাতে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আখতার ফারুক স্যার মারা গেছেন। তিনি একজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল মানুষ ছিলেন। উপাচার্য যাতে তাকে দেখে আসতে পারেন, সেই মানবিক বিবেচনায় তারা তালা খুলে দিয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ইলিয়াস হোসেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় চলবে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ৭৩-এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী। প্রায় একমাস আগে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী তিনি এগুলো মানতে বাধ্য নন। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি উপাচার্য সেগুলো মেনে চলছে। যা অধ্যাদেশের লঙ্ঘন, আমরা এখানে অবস্থান নিয়েছি বিশ্ববিদ্যালয় যাতে মর্যাদা ফিরে পায়।

তিনি আরও বলেন, উপাচার্য যদি কোনও অনৈতিক কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকেন তবে শিক্ষামন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু ব্যক্তির অপরাধে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা নষ্ট হতে পারে না।

জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে একজন প্রতিবন্ধী ছেলেকে চাকরি দেওয়া জন্য। যেহেতু নিয়োগ বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ আছে। তাই আমি বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি নিয়োগ দিতে বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ নেতারা এসে চাকরির দাবি করে। আমি জানিয়েছি, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগ বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন আমি নিয়োগ দিতে পারবো না।