সেদিন একাই গিয়েছিল আনুশকা, ৩ জনের সন্দেহজনক গতিবিধি

◷ ৪:০৯ অপরাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১২, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ
dihan

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- এখনও রহস্যে আবৃত মাস্টারমাইন্ড স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় আছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে, দিহানের বাসার প্রহরী দুলালকে।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাসাটিতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ছিল মেয়েটি। এ সময় রহস্যজনক গতিবিধি ছিল তিন ব্যক্তির। পুলিশ প্রধানের ধারণা, সর্বগ্রাসী মাদকের পরিণতিতেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

গত ৭ জানুয়ারি দুপুর ১২.১২ মিনিট। কলাবাগানে দিহানের বাসার সিড়িঘরের দিকে যাচ্ছেন ওই স্কুলছাত্রী। দুপুর একটার দিকে বাসার সামনে রহস্যজনক গতিবিধির দেখা মেলে তিন ব্যক্তির। তবে তাদের পরিচয় বোঝার উপায় নেই। প্রায় দেড় ঘন্টা পর দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে বাসা থেকে বের হয় দিহানের গাড়ি।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষনে এমন তথ্য মিললেও, এখনও মৃত্যুর সঠিক কারণ খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। তাই জিজ্ঞাবাসাদের জন্য ওই দিন দায়িত্বে থাকা প্রহরী পলাতক দুলালকে আটক করেছে পুলিশ। গণমাধ্যমে খোলা চিঠি লিখলেও অনেক চেষ্টা করেও ক্যামেরার সামনে আসতে রাজি হননি দিহানের মা।

ডিএমপির রমনা বিভাগের ডিসি মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে আমরা প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দারোয়ানকে হেফাজতে নিয়েছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরে জানানো হবে। এছাড়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দু-এক দিনের মধ্যে দিহানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

হেফাজতে নেওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দিহানের বাসার দারোয়ান দুলাল ঘটনার দিনের যে বর্ণনা দিয়েছেন, এর সঙ্গে দিহানের দেওয়া বর্ণনার অনেকটাই মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দারোয়ান দুলাল জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা অথবা সাড়ে ১১টার দিকে একজন মেয়ে আসে পান্থনিবাস-২ অ্যাপার্টমেন্টে। দিহান দোতালার ডি-২ ফ্ল্যাট থেকে নিজেই নেমে এসে ওই মেয়েকে বাসায় নিয়ে যান। তবে ওই মেয়ে প্রবেশের বিষয়ে তিনি রেজিস্ট্রার বইয়ে কোনো তথ্য লেখেননি বলে জানান দুলাল।

দুলাল আরো জানান, প্রায় দেড় ঘণ্টা পর দুপুর ১টা অথবা সোয়া ১টার দিকে দিহান ওই মেয়েটিকে পাঁজাকোলা করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে আনেন। গ্রাউন্ড ফ্লোরে পার্কিংয়ে থাকা গাড়ির পিছনের সিটে তোলেন। এরপর দিহান নিজেই গাড়ি চালিয়ে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হয়ে যান। এরপর ওই মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ভয় পেয়ে যান। এ কারণে তিনি ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পালিয়ে যান।

ডিএমপির নিউমার্কেট জোনের এসি আবুল হাসান বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই নজরদারিতে ছিলেন ওই বাসার দারোয়ান দুলাল। ঘটনার যথার্থতা যাচাইয়ে তার প্রয়োজন বোধ করায় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে দিহানের দেওয়া বর্ণনা মিলিয়ে দেখা হবে। যেহেতু দারোয়ান এজাহারভুক্ত আসামি নন, তাই তাকে আটক রাখা হবে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে যদি মনে হয় ছেড়ে দেওয়া উচিত, তাহলে ছেড়ে দেওয়া হবে।’