মির্জাপুরে রাতের আধাঁরে বিভিন্ন স্থানে চলে জুয়ার আসর: বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা

Mirzapur news
❏ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ১৪, ২০২১ ঢাকা

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রাতের আধাঁরে জমজমাট হয়ে উঠেছে জুয়ার আসর। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিরাতেই হচ্ছে লাখ লাখ টাকার জুয়া। এসব জুয়ার আসরে গাজীপুর, কালিয়াকৈর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল, ঢাকাসহ জেলার বাহির থেকে গাড়ি নিয়ে দলে দলে সিএনসি ভাড়া করে বিভিন্ন স্পটে যায় জুয়ারিরা।

জুয়ারিদের উপজেলার কুরণি এলাকার জলিলের সিএনসিসহ আরও বেশ কয়েকটি সিএনজি করে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, এসব জুয়ার আসর থেকে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, নামদারী কিছু সাংবাদিকদের নামে আদায় হচ্ছে মোটা অংকের চাঁদা। এ অবস্থায় বিপদগামী হচ্ছে এলাকার যুবসমাজ। বাড়ছে নানা অপরাধ প্রবণতা। শুধু তাই নয়, জুয়ার আসরে বিক্রি হচ্ছে বিদেশি মদ, গাজা, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ নানান সর্বনাশা মাদকদ্রব্য।

এ দিকে মির্জাপুর পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যস্ত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই সুযোগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জমজমাট হয়ে উঠেছে জুয়া। নির্বাচনের পাশাপাশি ঘন কুয়াশাকে কাজে লাগাচ্ছে জুয়ারিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বনতলী চরপাড়া গ্রামের শাজাহানের বাড়ির পাশে, ইলারা, তরফপুর ও বরাটিসহ বিভিন্ন স্পটে জুয়ার আসর বসে। এসব জুয়ার আসরে নেতৃত্ব দেন ইলারা গ্রামের মো. আরিফ মিয়া একই গ্রামের সাহাদত নামের দুই প্রভাবশালী। এমনকি প্রশাসনের সাথে সখ্যতা রয়েছে এমন লোকজন এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও ওই এলাকাগুলোতে জুয়ার আসরের লিডিং দিয়ে থাকেন।

পৌর সদরের কুমারজানি পূর্বপাড়া কাঠ বাগানে রশিদ দেওহাটা গ্রামের পন্ডিত আলীর ছেলে আমিনুরের নেতৃত্বে জুয়ার আসর বসানো হয়। সেখানে দেওহাটা গ্রামের মৃত ময়সের আলীর দুই ছেলে আয়নাল ও মিল্টনসহ বিভিন্ন জুয়ারি অংশ নেয়। সেখানে তিন তাস, চক্রবোর্ড, গাফলাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে রাতভর চলে জুয়ার জমজমাট আড্ডা। চলে মাদক সেবনও। লতিফপুর ইউনিয়নের নলিরপাড় ব্রিজের উপরে রাতে জুয়া চলে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এছাড়াও উপজেলার বাশঁতৈল, আজগানা, আনাইতারা, ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন স্পটে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির নেতৃত্বে রাতে চলে জুয়া।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় জুয়াড়িরা শুধু খেলাতেই সীমাবন্ধ থাকেন না। সেই সাথে বিভিন্ন মাদক ও অনৈতিক কর্মকান্ডও চালিয়ে থাকে। এসব জুয়ার আসরে প্রতিনিয়ত যোগ দিচ্ছে নতুন নতুন কিশোর ও তরুণরা। আবার কিছু কিছু এলাকায় স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরাও জড়িয়ে পড়ছেন জুয়া ও মাদকের খড়াল গ্রাসে। এসব শিক্ষর্থীরা জুয়ার টাকা জোগাড় করতে জড়িয়ে পড়ছেন চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, জুয়াড়িদের সাথে স্থানীয় প্রশাসনের আতাত থাকার কারণেই এমনটা হচ্ছে বলে দাবি করছেন তারা।

এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক এই প্রতিবেদককে বলেন, ইতিপূর্বে জুয়ার ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। তারপরও যদি উপজেলার কোথাও জুয়া চলে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন