রসিকের সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ লোপাটের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

১০:৩২ পূর্বাহ্ন | রবিবার, জানুয়ারী ১৭, ২০২১ রংপুর
Rangpur_City

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর- রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, করপোরেশনের অর্থ লোপাটসহ বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে পুনাঙ্গ প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও রংপুর বিভাগীয় কমিশনার দপ্তরের স্থানীয় বিভাগের উপ পরিচালক আশরাফুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র শরফ উদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টুর আমলে আব্দুল হাকিম মিয়া রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাব রক্ষক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় ক্ষমতার অপব্যাবহার নিজের হিসাব রক্ষক কর্মকর্তার পদ থেকে প্রধান হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা হিসেবে অবৈধভাবে পদোন্নতী হাতিয়ে নেন। অথচ মন্ত্রনালয় ছাড়া এভাবে পদোন্নতী নেয়া বেআইনী।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দানের নামে কোটি কোটি টাকার বানিজ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বাজার মুল্যের দশ গুন বেশী দামে কেনা সহ আরো অনেক অভিযোগ উঠেছে।

এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় পুরো বিষয় তদন্তের জন্য রংপুর বিভাগীয় কমিশনারকে নির্দ্দেশ দেন। মন্ত্রনালয়ের নির্দ্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনার দপ্তরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক আশরাফুল ইসলামকে প্রধান এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের সচিব রাশেদুল হককে সদস্য করে দু সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবার আদেশ দেয়া হয়।

তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত সাবেক হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা আব্দুল হাকিমকে স্বশরীরে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালকের দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রসহ তলব করে। এর পর তারি লিখিত জবানবন্দি গ্রহণ করে। এরপর তদন্ত কমিটি রংপুর সিটি করপোরেশনে গিয়ে হিসাব বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের কাগজ পত্র পরীক্ষা করে বেশ কয়েকজনের জবানবন্দি গ্রহণ করে। তদন্ত কমিটি সাবেক প্রধান হিসাব রক্ষক কর্মকর্তার পদোন্নতীর বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নির্দ্দেশ ছাড়া দেয়া হয়েছে বিষয়টি বেআ্ইনী ও বিধি বর্হিভুত বলে নিশ্চিত হয়।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার ছাড়াই বিভিন্ন কাজের বিল প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার দপ্তরের উপ পরিচালক আশরাফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান। তবে আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।