🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ সোমবার, ১৮ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২ আগস্ট, ২০২১ ৷

চাঁদপুরে পিঠা বিক্রির ২০ বছর উপলক্ষ্যে ফ্রিতে খাওয়াবেন বিক্রেতা!

Chadpur news
❏ মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৯, ২০২১ চট্টগ্রাম

মাহফুজুর রহমান, চাঁদপুর প্রতিনিধি: ‘গরীব ধনে নয়, মনে বড়’। সমাজের সাধারণ ব্যক্তিত্বের উদারমনা কর্মকান্ডে মানুষের মুখে কখনো কখনো ভাসতে থাকে এমন উক্তি। আর অনন্য সব কাজের মাধ্যমে তারা জায়গা করে নেয় মানুষের মণি-কোঠায়।

ঠিক সেভাবেই অসাধারণ উদারতম এক মানুষের খাতায় নিজের নাম লেখালো পিঠা বিক্রেতা লিটন বেপারী। চাঁদপুর শহরের কালীবাড়ি কোর্ট স্টেশন এলাকায় রেল লাইনের পাশে ফুটপাতে পিঠা বিক্রি করেন তিনি।

আগামী ২১ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার তার জীবনের একটি মহামূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। কারণ এ দিনেই তার হাতে ওঠে ভাপা, চিতই পিঠার সাথে শুটকি, সরিষার ভর্তার ডালা। আর এরই সাথে ঐদিন পূর্ণ হতে চলেছে তার পিঠা বিক্রির দুই দশক। জীবন পরিবর্তনের এই বিশেষ দিবসটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চান লিটন, তাই হাতে নিয়েছেন এক বিশেষ উদ্যোগ। পিঠা বিক্রির ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঐদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ফ্রিতে পিঠা বানিয়ে খাওয়াবেন তিনি। তাই যাকে সামনে পাচ্ছেন তাকেই দাওয়াত দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, পিঠা তৈরির ঝুপড়ির এক পার্শ্বে সাটিয়ে দিয়েছেন নেমন্তন্ন পোস্টার। যেখানে লেখা- ‘২০ বছর উপলক্ষ্যে লিটন বেপারীর পক্ষ থেকে ফ্রি পিঠা খাওয়ানো হবে’।

একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হয়েও লিটনের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন নিয়ে উচ্ছোসিত তার ক্রেতাসহ পিঠাপ্রেমী মানুষ। বড় মনের পরিচয় বহনকারী লিটন বেপারী ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ প্রশংসায় পঞ্চমুখ সর্বমহলে।

আগে শহরের পালবাজারে কাঁচা মালের আড়তে কাজ করতেন লিটন। ২০০১ সাল থেকে তিনি পিঠা বিক্রি শুরু করে ২০২১ সালে এসে তার পিঠা বিক্রি জীবনের ২০ বছর পূর্ণ হয়। আর এই খুশিতে তিনি ক্রেতাসহ পিঠাপ্রেমী মানুষকে বিনামূল্যে পিঠা খাওয়াবেন বলে মনস্থির করে পর্যপ্ত পরিমানে পিঠা তৈরিতে সকল প্রস্তুতি নিয়েছেন। এইদিন ক্রেতাদের জন্য চিতই পিঠার আয়োজন করেছেন শুটকি ভর্তা, সরিষা ভর্তাসহ চার রকমের ভর্তা দিয়ে। কোন ক্রেতাকেই তিনি  পিঠা না খাইয়ে খালিমুখে পাঠাবেন না।

লিটন বেপারী বলেন, ‘আমার ক্রেতারাই আমার পথ চলার গতি। তাদের টাকায় তিল তিল করে আমার জীবন গড়েছি। তাদের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে আমি এদিনটি উৎস্বর্গ করবো। তাইলেই আমার আত্তা তৃপ্তি পাবে’

শীতের সময়টাতে পিঠা বিক্রি ভালো হলেও বছরের অন্যান্য সময়টাতে তেমন ভালো যায়না লিটনের। রাস্তার পাশে পিঠা বিক্রি কিংবা কখনো কাঁচামাল বিক্রি, রিক্সা চালানো সহ বিভিন্ন কাজ  করেই সংসার চলে লিটনের। শুধু তাই নয়, পিঠা বিক্রির আয় থেকেই স্কুল, কলেজে পড়াশুনা করাচ্ছেন তার তিন মেয়েকে। স্ত্রী, সন্তান নিয়ে শহরের মমিনপাড়া এলাকায় বসবাস করেন তিনি।

লিটনের ক্রেতা আবদুর রহমান মুন্না জানান, ‘ লিটন ভাই অনেক ভালো মনের মানুষ। অনেক আগে থেকেই চিনি। এমন উদ্যোগ দেখে খুব আনন্দিত। খুব বেশি চমকে উঠিনি কারণ এটা ওনার দ্বারাই সম্ভব।’

কোর্টস্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী মমিনুল বলেন, ‘ লিটন ভাই দীর্ঘদিন এখানে বসেন। সন্ধ্যার পর তার হাতের পিঠা খাওয়ার জন্য ভীড় পড়ে যায়। কারণ সুস্বাধু ভর্তার সাথে তার পিঠা এখানকার সকলের প্রিয়। আমরা সবাই দাওয়াত পেয়েছি, সকল ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে তাকে স্যালুট জানাই’।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন