• আজ মঙ্গলবার, ১৯ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৩ আগস্ট, ২০২১ ৷

সাজার বদলে আদালত থেকে দেয়া হলো বই, ১০ শর্তে মুক্তি পেলো ৪৯ শিশু

court-
❏ বুধবার, জানুয়ারী ২০, ২০২১ সিলেট

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি- নিয়ম অনুযায়ী মামলার রায়ে প্রত্যেকের সাজা হওয়ার কথা ছিল। ভবিষ্যৎ জীবন ছিল অনিশ্চিত। কিন্তু এই শিশুদের আদালতে নিয়মিত হাজিরা থেকে মুক্তি দিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিতে সকল মামলা নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন আদালত। তারা এখন নিজ বাড়িতে তাদের মা-বাবার জিম্মায় থাকবে। এই সময়কালে তাদের ১০টি শর্ত পালন করতে হবে। শর্ত পালনের বিষয়টি তত্ত্বাবধান করবেন জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা শাহ মোঃ শফিউর রহমান।

এমনি ঘটনা ঘটেছে সুনামগঞ্জে। নানা অভিযোগে পৃথক ৩৫টি মামলায় আসামি ছিল ৪৯ জন শিশুর।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ জাকির হোসেন বুধবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে আসামি, তাদের অভিভাবক ও আইনজীবীদের উপস্থিতিতে এসব মামলায় ব্যতিক্রমী এই রায় ঘোষণা করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রবেশনে দেয়া এসব শিশু সাধারণ মামলা ও মারামারি মামলার আসামি ছিল।

আদালত বলেছেন, প্রবেশনের সময় অপরাধে জড়িত শিশুদের বাবা মায়ের আদেশ নির্দেশ মেনে চলা ও বাবা মায়ের সেবা যত্ন করতে হবে। ধর্মীয় অনুশাসন মানা ও ধর্মগ্রন্থ পাঠ করতে হবে। প্রত্যেকে কমপক্ষে ২০টি করে গাছ লাগাবে ও পরিচর্যা করবে। অসৎ সঙ্গ ত্যাগ ও মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো অপরাধের সঙ্গে নিজেকে জড়াতে পারবে না।

শিশুদের নিয়ে এমন রায় দেয়ার সময় আদালত উল্লেখ করেন, এই রায়ের ফলে ছোটখাট অনেক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হলো। শিশুরা তাদের আপন ঠিকানা ফিরে পেল। মা-বাবার দুশ্চিন্তার অবসান হলো এবং তারা তাদের আদরের সন্তানকে নিজের কাছে রেখে সংশোধনের সুযোগ পেল।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট নান্টু রায় বলেন, আদালত ৩৫ শিশু অপরাধ মামলায় একসঙ্গে যুগান্তকারী একটি রায় দিয়েছেন।

জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা শাহ মোঃ শফিউর রহমান বলেছেন, প্রবেশনকালে এই শিশুরা শর্তগুলো যথাযথভাবে পালন করছে কিনা সেটির তত্ত্বাবধান করা আমার দায়িত্ব। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও দায়িত্ব রয়েছে এসব শর্ত পালনে তাদের সহযোগিতা করা, পাশে থাকা। তিন মাস পরপর আদালতে এই বিষয়ে আমাকে প্রতিবেদন দিতে হবে।

শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ জাকির হোসেনের লেখা ১০০ মনষীর জীবনী বই ওই ৪৯ শিশুর হাতে তুলে দেয়া হয়।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন