দেশবাসীকে আগ্রহী করতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীকে টিকা নেওয়ার আহ্বান বিএনপির

১০:৪৭ পূর্বাহ্ন | শনিবার, জানুয়ারী ২৩, ২০২১ জাতীয়
Rijvi

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- দেশবাসীকে আগ্রহী করতে ভারত থেকে উপহার হিসেবে দেওয়া টিকা প্রথমে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানাবো- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা যেভাবে টিকার প্রথম ডোজ নিয়ে মানুষকে আস্থা ও ভরসা দিচ্ছেন এবং আশ্বস্ত করছেন, আপনারাও সেই পথ অনুসরণ করুন। তাদের মতো আপনারাও সাহসী পদক্ষেপ নিন।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা আগে টিকা নিলে জনগণ ভরসা পাবে। এ টিকা নিতে সাহস পাবে গোটা দেশবাসী। টিকা নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা কাটাতে সহায়ক হবে। অনাগ্রহ কাটিয়ে দেশবাসীকে টিকা নিতে আগ্রহী করে তুলবে।’

রিজভী বলেন, ‘করোনার টিকা সরকারি মন্ত্রী, এমপিদের বাদ দিয়ে যখন সাধারণ মানুষকে দেওয়ার কথা বলা হয়, তখন দেশের মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘যারা দেশের নেতৃত্বস্থানে রয়েছেন তাদের থেকে এই টিকাদান শুরু হলে মানুষ ভ্যাকসিন নিতে আস্থা পাবে।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘প্রথমে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকা নিলে মানুষ ভরসা পাবে। জনগণ উপলব্ধি করবে আপনারা দেশের মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। জনগণকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসেন।’

তিনি বলেন, ‘তাদের দল আশা করে প্রথম টিকাটি প্রধানমন্ত্রীর নেওয়ার দৃশ্য সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে।’

‘আর যদি প্রথমবার টিকা না নেন, তাহলে জনগণ নিশ্চিত হবে, আপনাদের সবকিছুই ভণ্ডামি ও ছলচাতুরী। জনগণকে কোনো দেশের পরীক্ষাগারের গিনিপিগ বানাতে চাচ্ছেন। গরীব সাধারণ আমজনতাকে আগে ভ্যাকসিন দিয়ে দেখবেন ওরা মরে না বাঁচে’, বলেন রিজভী।

বৃহস্পতিবার ভারত সরকারের সৌজন্যে বাংলাদেশে ২০ লাখ ডোজ টিকা পাঠানো হয়েছে। দেশটির সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (এসআইআই) থেকে ভ্যাকসিনের তিন কোটির ডোজ কিনছে বাংলাদেশ এবং ৫০ লাখ শটের প্রথম চালান আগামী ২৫ জানুয়ারি ঢাকায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রিজভী বলেন, ‘ভারতের পাঠানো ভ্যাকসিনটি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি নাকি ভারত বায়োটেকের উদ্ভাবিত টিকা, এ নিয়েও জনমনে গভীর সন্দেহ-সংশয় রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যতদূর জানি কোভিড-১৯ মোকাবিলায় এখন পর্যন্ত ভারত তাদের দেশে দুই ধরনের টিকা অনুমোদন দিয়েছে। একটি হচ্ছে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা অ্যাস্ট্রাজেনেকার মিলিত গবেষণায় তৈরি টিকা “কোভিশিল্ড”। অপরটি হচ্ছে ভারত-বায়োটেকের উদ্ভাবিত টিকা “কোভ্যাক্সিন”। এই দুটি টিকাই উৎপাদন করছে ভারতের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট। তবে ভারত সরকার বাংলাদেশে কোনটি পাঠিয়েছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’