শাহজাদপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের অর্থায়নে পাকা ঘর পাচ্ছে প্রতিবন্ধী দম্পতি

house

রাজিব আহমেদ রাসেল, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: আর-ই-বি চেয়ারম্যানের দিক নির্দেশানায় সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অধীনস্থ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্থায়নে পাকা ঘর পাচ্ছে, শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের হামলাকোলা গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে প্রতিবন্ধী নুর ইসলাম।

শাহজাদপুর জোনাল অফিসের এন ফোর্সমেন্ট কো-ওডিনেটর মো. সাইদুল ইসলাম বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের জন্য নুর ইসলামের বাড়িতে আসে। তার এই দুরাবস্থার বিষয়টি জেনে তিনি শাহজাদপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমানকে অবহিত করেন।

তৎক্ষণাৎ ডিজিএম মিজানুর রহমান সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার রমেন্দ্র চন্দ্র রায়কে অবগত করেন। সেদিনই রমে্ন্দ্র চন্দ্র রায় শাহজাদপুর এসে ডিজিএম মিজানুর রহমান ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে প্রতিবন্ধী নুর ইসলামের বাড়ি পরিদর্শনে আসেন।

নুর ইসলামের দুরাবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করে কর্মকর্তা কর্মচারীদের অর্থায়নে একটি পাকা ঘর দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এরপরই শুরু হয় প্রতিবন্ধী বাড়ী পাকা ঘর নির্মাণের কাজ।

আজ সোমবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঘর নির্মাণ কাজের তদারকি করতে উপস্থিত হন শাহজাদপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজর প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, শাহজাদপুর জোনাল অফিসের এন ফোর্সমেন্ট কো-ওডিনেটর মো. সাইদুল ইসলাম, শাহজাদপুর জোনাল অফিসের সহকারী প্লান্ট হিসাব রক্ষক মো. মাসুদ রানা পারভেজ, হাবিবুল্লাহনগর ইউপির সংরক্ষিত ৪ ,৫, ৬ নং ওয়ার্ডে মহিলা মেম্বার মোছা. মঞ্জুয়ারা খাতুন, সাংবাদিক রাজিব আহমেদ রাসেল, রাসেল সরকার, মাহফুজুর রহমান মিলন ও স্বেচ্ছাসেবক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল-মাহমুদ প্রমূখ।

এর আগে নুর ইসলামের বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিকরা জানতে পারেন যে, ঘরে চাউল না থাকায় দুপুর পর্যন্ত নুর ইসলামের বাড়ির চুলায় আগুন জলেনি। তৎক্ষণাৎ সাংবাদিক রাজিব আহমেদ ৫০ কেজি (বস্তা) চাউল প্রতিবন্ধী দম্পতির হাতে তুলে দেয়।

উল্লেখ্য, নুর ইসলাম ও তার শাহেদা খাতুন শারীরিক প্রতিবন্ধী। এক ছেলে নিয়ে তারা উপজেলার হামলাকোলা গ্রামের বেইলী ব্রীজের পাশে বসবাস করেন।

দীর্ঘদিন প্রতিবন্ধী নুর ইসলাম অন্যের বাড়িতে তাঁতের জোগাল দিতো। বয়সের ভারে সেটাও আর সম্ভব না হওয়ায় ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নেয়। তার ৮ বছরের ছেলে অন্যের বাড়িতে শুধুমাত্র খাদ্যের বিনিময়ে কাজ করে জীবন চালায়।

ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া ০.০৫ (পাঁচ) শতক জায়গার উপরে এক কোণে একটি ছাপড়া ঘরে তার বসবাস। তার বাড়িতে এখন দ্রুত গতিতে নির্মাণ হচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কর্তৃক দেওয়া পাঁকা ঘর। ২০ ফুট প্রস্থ ও ২২ ফুট দৈর্ঘ্যের দুই কক্ষ বিশিষ্ট এই ঘরটির সাথে সংযোজিত থাকছে দুটি রুম, একটি বাথরুম, একটি কিচেন রুম ও সামনে খোলা বারান্দা।

◷ ৬:১২ অপরাহ্ন ৷ সোমবার, জানুয়ারী ২৫, ২০২১ রাজশাহী