কক্সবাজারে হোটেল জোনে চিকিৎসাসেবার আড়ালে জমজমাট ‘মাদক ব্যবসা’!

১১:১৯ পূর্বাহ্ন | বুধবার, জানুয়ারী ২৭, ২০২১ চট্টগ্রাম
cox

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার থেকে: পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোনে এক ফার্মেসীতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমানে মদ, ফেন্সিডিল, বিয়ার ও নানা মাদকদ্রব্যসহ মোহন সেন (২৮) নামে একজনকে আটক করেছে র‌্যাব ১৫ এর সদস্যরা।

আটক মোহন সেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার রবি সেনের ছেলে। সে মেসার্স ‘মা’ মেডিকো নামে ফার্মেসীর মালিক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদক ব্যবসার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি র‌্যাবের।

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারী) রাত পৌনে ১০ টার দিকে শহরের কলাতলীর সী-প্যালেস হোটেলের সামনে মেসার্স মা’ মেডিকো নামে একটি ফার্মেসী থেকে মাদকসহ তাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, মোহন সেন দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনে এসব বিদেশী মদ ও ফেন্সিডিল সরবারহ করে আসছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই ফার্মেসীর ওষুধের কাটুনের ভেতরে বিদেশী মদ রাম ৬০ বোতল, বিদেশী বিয়ার ২০টি, ২০ বোতল ফেন্সিডিল ও বেশ কয়েক কার্টুন যৌন উত্তেজক ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার র‌্যাব ১৫ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী বলেন, ফার্মেসীর আড়ালে সে এ ব্যবসা পরিচালনা করছিল। র‌্যাব জানতে পেরে তাকে এসব মাদকসহ আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পর্যটন শহর কক্সবাজারের হোটেল মোটেল জোনে পর্যটন ব্যবসার আড়ালে সক্রিয় রয়েছে অপরাধী চক্র। ইয়াবার চালান মজুদ করে পরে ঢাকায় পাচার, যৌনকর্মীদের আনাগোনা ও দিনে দুপুরে জুয়ার আসর বসানো থেকে শুরু করে সেখানে বিভিন্ন অপরাধ হচ্ছে প্রকাশ্যে। টেকনাফ, উখিয়ার কয়েকজন ইয়াবা ‘গডফাদার’ও এ জোনে আস্তানা গেড়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এসব হোটেল মোটেল জোনের কিছু কিছু গেস্টহাউসে অভিযান পরিচালনা করলেও বেশিরভাগই‌ রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

শহরের কলাতলী ও সীমান্তের কয়েকটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট এ অপরাধচক্র নিয়ন্ত্রণ করছে। এছাড়াও হোটেল মোটেল জোনে গড়ে ওঠা এসব গেস্টহাউসের বেশিরভাগ ভাড়ায় পরিচালিত হয়। অপরাধীরা মাসিক চুক্তিতে এককালীন ভাড়া নিয়ে সেখানে গড়ে তুলছে ইয়াবার মজুদ। পাওয়া যাচ্ছে যৌনকর্মীও।

পর্যটন ব্যবসার আড়ালে নিরাপদে ইয়াবার মজুদ তৈরি করে পরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান করে দেওয়া হচ্ছে। মোটা অঙ্কের টাকায় আবাসিক গেস্টহাউস ভাড়া নিয়ে মাদকের এসব আখড়া তৈরি করা হয়। কয়েক দফায় ঢাকায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ কয়েকজন আটক হওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া শুরু করেছে।