করোনার ভ্যাকসিনে জনগণের অধিকার আগে: তথ্যমন্ত্রী

৩:১৬ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২১ জাতীয়
hasan

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস রোধে ভ্যাকসিন নেওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের অধিকার আগে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, যারা ফ্রন্টলাইন ফাইটার বা যাদের পাওয়া খুবই জরুরি, তারা পাওয়ার পর নিজের করোনার ভ্যাকসিন পাওয়ার অধিকার।

বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির সাথে সাক্ষাৎকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জাবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আপনি কবে করোনার টিকা নিচ্ছেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার টিকার প্রায়োরিটি (অগ্রাধিকার) অনুযায়ী আমার অবস্থান কোথায় আমি জানি না। তবে যারা প্রায়োরিটি লিস্টে আছে তারাই প্রথমে পাবে। লিস্টের (তালিকা) মধ্যে একটি জিনিস দেখেছি, ৫৫ বছরের বেশি বয়স্করা টিকা পাবেন। আমার বয়স ৫৫ এর বেশি। আমি টিকা পাওয়ার যোগ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি দেশের যারা ফ্রন্টলাইন ফাইটার তারাই পাওয়ার অধিকার রাখে প্রথমে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা জনগণকে দিয়ে পরে আমরা নেব।

আমিও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি জনগণকে টিকা দেয়ার পর… যারা ফ্রন্টলাইন ফাইটার বা যাদের টিকা পাওয়া খুবই জরুরি তারা পাওয়ার পর আমাদের অধিকার। যদিও ৫৫ বছর বয়স হিসেবে আমার একটা অধিকার আছে। তবে আমি মনে করি জনগণের অধিকার আগে।’

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জাবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, প্রথমত সেখানে ভোটার টার্নআইট কম হওয়ার প্রধান কারণ করোনা। দ্বিতীয়ত নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলেও শেষের দিকে তারা হাল ছেড়ে দিয়ে ঘরে বসেছিল। নির্বাচনের দিন তারা কিছু সহিংসতা করেছে, বিশেষ করে তাদের কাউন্সিলর প্রার্থীরা, এমন বিভিন্ন জায়গায় তারা আক্রমণ চালিয়ে ইভিএম ভেঙে দিয়েছে, আক্রমণ চালিয়ে আমাদের দল মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলামের ছেলেকে তারা আহত করেছে, আরও বেশ কয়েকজন তাদের হামলায় আহত হয়েছে। কার্যত নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার জন্য বিএনপি যেভাবে মাঠে থাকা প্রয়োজন ছিল, সেভাবে মাঠে ছিল না। যে সহিংসতাগুলো হয়েছে সেগুলো কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যেই হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘটনা ভাইয়ে ভাইয়ের মধ্যে, এক ভাই আরেক ভাইকে হত্যা করেছে। তবে বিএনপি নির্বাচনে সহিংস আচরণ করেছে। বিভিন্ন জায়গায় তারা হামলা চালিয়েছে, এমনকি ইভিএম মেশিনও ভেঙে দিয়েছে।

তিনি বলেন, সার্বিকভাবে আমি বলব, বাংলাদেশে সিটি করেপোরেশন নির্বাচন বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব সময় ছোটখাটো ঘটনা ঘটেছে। এবং এটি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও পশ্চিম বাংলাতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটে। কলকাতা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় এবং ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় ১৯ জন মানুষ মারা গেছেন। এমনকি কলকাতা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী রুপা গাঙ্গুলীর নির্বাচনী প্রচারণার মিটিং তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ভেঙে দিয়েছিল তার উপস্থিতিতে। এবং এতে রুপা গাঙ্গুলিকে দৌড়ে পালিয়ে একটা ঘরের মধ্যে দরজা বন্ধ করে দিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। সে ধরনের ঘটনাতো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঘটেনি। ভোটার টার্নআউট যদিও কম, তবে করোনার মধ্যে সেটি আমা করাও সঠিক নয়।