🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ সোমবার, ১৮ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২ আগস্ট, ২০২১ ৷

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন অনিয়মের একটি মডেল: মাহবুব তালুকদার


❏ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২১ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- এবার খোদ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারই বললেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন অনিয়মের নির্বাচনের একটি মডেল। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে এই মডেল অনুসরণ করা হলে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদা সমুন্নত রাখা যাবে না।

বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে ‘‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে আমার বক্তব্য’ শিরোনামে লিখিত বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার এ সব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে যথাযথ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় শামিল হতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট পড়েছে শতকরা সাড়ে ২২ ভাগ মাত্র। এত অল্পসংখ্যক ভোট গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নিয়ামক হতে পারে না। এই পরিস্থিতি নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতার পরিচায়ক, যা গণতন্ত্রের জন্য এক অশনিসংকেত। সুষ্ঠু পরিবেশে অবাধ, নিরপেক্ষ, আইনানুগ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে ভোটার উপস্থিত অবশ্যই বেশি হতো। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে, আমরা সার্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারব না, তা মেনে নেওয়া যায় না।’

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যে অরাজকতা দেখা গেছে, তাতে আমি হতাশ। আমার আশঙ্কা শেষ পর্যন্ত সত্য হলো এবং সাবধানবাণীতে কোনো কাজ হলো না। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনকালে মোট চারজনের প্রাণহানি প্রকারান্তরে চারটি পরিবারের প্রাণহানির নামান্তর। সহিসংতা, কেন্দ্র দখল, পুলিশের গাড়ি ও ইভিএম ভাঙচুর ইত্যাদি ঘটনা এই নির্বাচনকে কলঙ্কিত করেছে। এ ধরনের তাণ্ডব বন্ধ করতে আমাদেরকে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ খুঁজে পেতে হবে । নির্বাচন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন ব্যতীত তা সম্ভব হবে না। এ জন্য দল-মত নির্বিশেষে সকলের ঐকমত্য প্রয়োজন।’

বুধবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী। ক্ষমতাসীন দলের নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হয়ে বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেনকে ৩ লাখ ভোটে হারিয়েছেন তিনি।

এবারের নির্বাচনে ভোটার ছিলেন মোট ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন, তাদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন মোট ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৩। ভোটের হার ২২ দশমিক ৫২ শতাংশ।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ প্রযোজনায় চট্টগ্রামে আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, নজিরবিহীন নির্বাচন। দিনের ভোট চট্টগ্রামে রাতে হয়।

রহুল কবীর রিজভী বলেন, আসলে এই নির্বাচন চূড়ান্ত তামাশা ও প্রহসনের নির্বাচন ছাড়া কিছুই নেই। বর্তমান সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন সুষ্ঠু নির্বাচন নামক শব্দটি মানুষের কাছে অচেনা হয়ে যাবে। এরা ভোটারদের ভোটাধিকার মনে প্রাণে ঘৃণা করে। এরা বিরোধীদল ভিন্নমত, সমালোচনা ও গণতন্ত্রের ঘোরতর শত্রু।

তবে চসিক নির্বাচন ‘মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী কর্তৃক ইভিএম মেশিন ভাঙা ও কেন্দ্র দখলসহ সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছিল বিএনপি। বরাবরের মতো এ নির্বাচনেও বিএনপি ভোটের মাঠে অংশগ্রহণ না করে, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, তার দায়ভার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপরে চাপানোর চেষ্টা করেছে।’

ওবায়দুল কাদের দাবি করেন, বিএনপি ৭৩৫টি কেন্দ্রের সবগুলোতে এজেন্ট দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের সেই সাংগঠনিক ক্ষমতা নেই মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তারা তাদের দুর্বলতা ঢাকতে ও গণরায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে।’

নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা না করায় এবং গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন