সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বগুড়ার শিবগঞ্জে বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন

৫:৪৮ অপরাহ্ন | শনিবার, জানুয়ারী ৩০, ২০২১ রাজশাহী
bogura

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত ধুনট, নন্দীগ্রাম, কাহালু ও শিবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

শিবগঞ্জ পৌরসভায় কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও বুথ দখল করে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মতিয়ার রহমান মতিন নির্বাচন বর্জন করেছেন। তিনি সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন। তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তৌহিদুর রহমান মানিক দৃঢ়তার সঙ্গে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, ২-৩টি কেন্দ্রে সামান্য অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট বের করে দেওয়া এবং জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বেলা ১টা পর্যন্ত ৫৫-৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে।

শিবগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী (ধানের শীষ) মতিয়ার রহমান মতিন অভিযোগ করেন, “ভোট শুরুর পর থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তৌহিদুর রহমান মানিকের লোকজন কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নেন। তারা সকাল ৯টার পর ১১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯টি থেকে তার (ধানের শীষ) এজেন্টদের বের করে দেয়।

এরপর ইচ্ছামত জাল ভোট দেয়। ৬টি কেন্দ্রে বেলা ১১টার পর ব্যালট পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে স্থানীয় নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তাই তিনি মেয়র পদে নির্বাচন বর্জন করলেন”।

বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক। তিনি ও তার লোকজন জানান, পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি প্রার্থী ও তার লোকজন মিথ্যাচার করছেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার আনিসুর রহমান জানান, ১১টি কেন্দ্রের ২-৩টিতে এজেন্টদের মাঝে সামান্য অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। তবে কোথাও বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের কথাও তিনি শোনেননি।

এদিকে বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভার কাজী ওয়াজেদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা ১১টার দিকে জোরপূর্বক জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

নন্দীগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ওসমান গণি সরকার বেলাল ওই কেন্দ্রে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ব্যালট নিয়ে নৌকার মেয়র প্রার্থী আনিসুর রহমানকে ৩০-৪০টি ভোট দেন। খবর পেয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিন হাসান তাকে (অধ্যক্ষ) আটক করেন। বেলা দুইটা পর্যন্ত তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কথা বলতে রাজি হননি। রিটার্নিং অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, জাল ভোট দেওয়ার অপরাধে তাকে আটক করা হয়েছে। পরে ওইসব ভোট বাতিল করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আকতার জানান, জাল ভোট দেওয়ার অপরাধে একজনকে আটক করার কথা শুনেছেন।

ধুনট পৌরসভার চর ধুনট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা ১২টার দিকে বুথে ঢুকে নৌকা প্রার্থী টিআইএম নুরুন্নবী তারিকের পক্ষে ভোট দেওয়া নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী (জগ) এজিএম বাদশার এজেন্টের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

দায়িত্বশীল যুবলীগ নেতার মারপিটে বাদশার কর্মী সেলিম রক্তাক্ত জখম হন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে নৌকার প্রার্থীর লোক মঞ্জুরুল ইসলাম ও লাঠিহাতে প্রতিবাদ করতে আসা জগ প্রার্থীর কর্মী আহত সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেনকে গ্রেফতার করেন। পরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশিক খান গ্রেফতার মঞ্জুরুল ইসলাম ও উজ্জ্বল হোসেনকে পাঁচ হাজার করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত দুজনকে জরিমানা করার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তার পৌরসভায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে।

বগুড়ার কাহালু পৌরসভা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুরে হাসান আলী নামে এক যুবক নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে ব্যালট বাহিরে আনায় তাকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া গাবতলী পৌরসভায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছিল।