🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ২০ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৪ আগস্ট, ২০২১ ৷

খাবার জোগাড় করতে না পেরে শিশু সন্তানকে পানিতে ফেলে দিলেন মা

child
❏ রবিবার, জানুয়ারী ৩১, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ব্রিজ থেকে ২০ ফুট নিচে পানিতে দুধের শিশুকে ফেলে দিলেন মা। ফেলে দেয়ার পর শিশুটি পানিতে ভাসতে থাকে। তবে রাখে আল্লাহ মারে কে? পরে পথচারী এবং এলাকাবাসী শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে।

শিশুটি এখন স্থানীয় রফিকুল ইমলাম এবং এলিনা দম্পতির কাছে রয়েছে। এলিনা শিশুটিকে তার বুকের দুধও পান করিয়েছেন। শিশুটি এখন সুস্থ আছে।

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাশিমবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে শিশুটির মা জমিলা বেগম পালিয়ে নিজ বাড়িতে চলে গেছেন।

শিশুর মা জমিলা বেগম জানান, একবছর আগে দুই মাসের সন্তান জাহিদকে নিয়ে স্বামীর বাড়ি রংপুর থেকে বিতাড়িত হয়েছিল সে। দিনমজুর বাপ জয়নাল মিয়ার বাড়িতে অভাব-অনটন থাকায় তার সন্তানের ভরণপোষণ নিয়ে প্রায় দ্বন্দ্ব হতো। সন্তানের খাবার ও খরচ চালাতে মাঝেমধ্যে তাকে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে হতো। এসব থেকেই সন্তানকে পানিতে ফেলে দিয়েছিলেন তিনি।

প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার দিন বাবার সংসার থেকে দুই কেজি চাল সবার আড়ালে বিক্রি করে শিশুর জন্য খাবার, তেল ও সাবান কিনে আনে জমিলা। এতে বাবা রাগান্বিত হয় এবং জমিলাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে। মনের দুঃখে হতাশ জমিলা বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কাশিম বাজারসংলগ্ন ব্রিজ থেকে সন্তানকে পানিতে ফেলে দেয়।

জমিলার বাবা জয়নাল মিয়া বলেন, ‘আমার মেয়ে জমিলা তার ছেলে জাহিদকে পানিতে ফেলে দিয়েছিল। কি কারণে এরকম কাজ করলো তা আমি জানি না।’ তিনি আরও জানান, দুই বছর আগে রংপুরের মর্ডান মোড়ের এক কবিরাজের ছেলে হাফিজুরের সঙ্গে জমিলার বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের একবছর পরেই দুই মাসের কোলের শিশুকে নিয়ে সংসার ভাঙে জমিলার। এসময় জাহিদকে নিয়ে তার বাড়িতে ফিরে আসে জমিলা। এদিকে তিন সন্তান নিয়ে বড় মেয়ে জরিনাও তার সংসারে ফিরে এসে মাথার বোঝা হয়ে আছে আগেই। সব মিলিয়ে নয় সদস্যর পরিবারে দিনমজুরি করে চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে।

জমিলার মা জবেদা বেগম জানান, জমিলার সন্তান নিয়ে পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকতো। তার খরচ চালাতে চাইতো না জমিলার বাবা।

জমিলার বৃদ্ধা নানী সুফিয়া বেওয়া জানান, তার ভিক্ষাবৃত্তির চাল দিয়ে মাঝেমধ্যে জমিলার সন্তানের খরচ চলতো। তবে জমিলা তার সন্তানের জন্য অনেক নির্যাতন সহ্য করেছে। এসব নির্যাতন থেকে বাঁচতে সন্তানকে পানিতে ফেলে দিয়েছিল সে।

প্রত্যক্ষদর্শী দুলাল হোসেন জানান, সকাল নয়টার দিকে বাড়ি থেকে তিনি ওই পথে বাজারে যাচ্ছিলেন। এসময় ব্রিজটির ওপর থেকে এক নারীকে কিছু পানিতে ফেলতে দেখে তিনি। নিচে তাকিয়ে দেখে একটি শিশু পানিতে ভাসছে এবং হাত-পা নাড়াচ্ছে। আতঙ্কিত হয়ে তিনি চিৎকার করতে থাকেন। তার চিৎকারে স্থানীয় ফরিদুল ইসলাম এবং একজন পথচারী এগিয়ে এসে সাঁতরে শিশুটিকে উদ্ধার করে।

এসময় ব্রিজের পাশের বাড়ির রফিকুল ও এলিনা বেগম দম্পতি শিশুটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন এবং সেবা করেন।

বলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান জানান, শিশুটি আপাতত রফিকুল ও এলিনা বেগম দম্পতির কাছে রয়েছে। তাকে তার মায়ের কাছে ফেরত দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা জানান, চেয়ারম্যানকে ফোন দিয়েছিলাম খোঁজখবর নিয়ে ওই পরিবারকে সহযোগিতা দেওয়া হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন