মিয়ানমারে অভ্যুত্থানে যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা, ব্যবস্থা নেয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

১১:৩৪ পূর্বাহ্ন | সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০২১ আন্তর্জাতিক
sena

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের আটক করে জরুরি অবস্থা জারির নিন্দা জানিয়েছে আমেরিকা।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জেন সাকি বলেছেন, দেশটির সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের চেষ্টা বা গণতান্ত্রিক উত্তরণে প্রতিবন্ধকতা তৈরির যে কোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র। এসব পদক্ষেপ বাতিল করা না হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তনি ব্লিংকেন বলেন, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, শান্তি এবং উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষায় রয়েছে বার্মার জনগণ। সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই এই পদক্ষেপ বাতিল করতে হবে।

এর আগে সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি সহ তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) শীর্ষস্থানীয় নেতাদের গ্রেফতার করা হয়।

এরপরই রাজধানী নেপিডো ও প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় রাস্তায় টহল দিতে শুরু করে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যুত্থানের খবর নিশ্চিত করে সেনাবাহিনী।

সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন টেলিভিশনে ঘোষণা করা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ সিনিয়র জেনারেল মিং অং হ্লাং-এর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছে।

২০২০ সালের নভেম্বর মাসের নির্বাচনে এনএলডি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। সেনাবাহিনী সমর্থিত প্রভাবশালী বিরোধী দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

কদিন আগে সেনাপ্রধান জেনারেল মিং অং হ্লাং বলেন, প্রয়োজন হলে সংবিধান বাতিল করা হতে পারে। তারপর থেকেই অভ্যুত্থানের গুঞ্জন শুরু হয়। এরপর অভ্যুত্থানের আশঙ্কা প্রকাশ করে এর নিন্দা জানায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা। তবে এ আশঙ্কাকে ভুল বলে বিবৃতি দেয় সেনাবাহিনী। এর দু’দিন পরই গ্রেফতার হলেন সু চি, মিন্টসহ দেশটির নির্বাচিত শীর্ষ নেতারা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী নেপিডো ও প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় রাস্তায় সেনারা টহল দিচ্ছে। প্রধান প্রধান শহরে মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।