মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি বাইডেনের

১১:১১ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২, ২০২১ আন্তর্জাতিক
President Jo Biden

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করায় দেশটির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেন তিনি।

একইসঙ্গে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল এবং দেশটির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রধান ও নোবেল বিজয়ী অং সান সু চিকে আটক করার বিষয়টি ‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে দেশের উত্তরণে প্রত্যক্ষ আক্রমণ’ বলে নিন্দা করেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রায়শই একা ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ পদ্ধতির বিপরীতে আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে মিত্রদের সঙ্গে আরও সহযোগিতার জন্য মিয়ানমারের সঙ্কটে বাইডেনের প্রতিশ্রুতির প্রথম বড় পরীক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে।

সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি সহ তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) শীর্ষস্থানীয় নেতাদের গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় গতকাল সকালেই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলে, সু চিসহ অন্যদের ছেড়ে না দিলে মিয়ানমারের দায়ী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি এ বিষয়ে গতকাল বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক উত্তরণ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টার বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপগুলোর ব্যত্যয় ঘটলে মিয়ানমারের দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র।

এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিবৃতি দিলেন। বিবৃতিতে বাইডেন বলেছেন, জনগণের ইচ্ছার ওপর কখনো শক্তি প্রয়োগ করা উচিত নয়। বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের ফলাফল নিশ্চিহ্নের চেষ্টাও করা উচিত নয়।

গণতান্ত্রিক উত্তরণের পরিপ্রেক্ষিতে গত এক দশকে মিয়ানমারের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু মিয়ানমার ফের সামরিক শাসনে ফেরায় দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিল যুক্তরাষ্ট্র।

এ প্রসঙ্গে জো বাইডেন বলেছেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হবে।’ একই সঙ্গে বাইডেন সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বে যেখানেই গণতন্ত্র আক্রমণের শিকার হবে, সেখানেই তার (গণতন্ত্র) পক্ষে দাঁড়াবে যুক্তরাষ্ট্র।