🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ২০ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৪ আগস্ট, ২০২১ ৷

সু চি কোথায়?

Suchi
❏ মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২, ২০২১ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও দেশটির নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চি কোথায় আছেন তা জানা যায়নি। একই সঙ্গে জানা যায়নি তার সঙ্গে বন্দি হওয়া সরকারের অপর মন্ত্রীদের অবস্থানও।

তবে সোমবার দেশটির ২৪ জন মন্ত্রীকে বরখাস্ত করেছে সামরিক সরকার এবং সেনা কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ১‌১ জন মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এখবর জানিয়েছে।

সু চি ও তার দলের নেতাদের খোঁজ না মেলায় এক ধরনের উদ্বেগ জন্মেছে দেশটির সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে। এদিকে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে হুমকি মিলেছে। দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনায় দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন।

একইসঙ্গে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল এবং দেশটির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রধান অং সান সু চিকে আটক করার বিষয়টি ‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে দেশের উত্তরণে প্রত্যক্ষ আক্রমণ’ বলে নিন্দা করেছেন বাইডেন।

বিবৃতিতে বাইডেন বলেন, দখলকৃত ক্ষমতা ছেড়ে দিতে এবং দেশটির নেতাকর্মী ও আটককৃত কর্মকর্তাদের মুক্তি দিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর চাপ দিতে হবে। এর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

মিয়ানমারে গত কয়েকদিন ধরেই সেনা অভ্যুত্থানের হুমকি বা আশঙ্কা নিয়ে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। সোমবার সেই গুঞ্জনই সত্যি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল এনডিএল-র নেত্রী অং সান সু চি এবং প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকে আটকের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতার দখল নিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

ঠিক এক দশক আগে ২০১১ সালে দীর্ঘ সেনাশাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশটিতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, এ ঘটনায় তা আবারও মুখ থুবড়ে পড়ল।

বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরুর পর ২০১৫ সালে মিয়ানমারে প্রথম জাতীয় নির্বাচন হয় এবং বড় জয় নিয়ে ক্ষমতায় আসে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি)। মেয়াদের পাঁচ বছরে সাংবিধানিকভাবে শক্তিশালী সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করেই এনএলডি দেশ পরিচালনা করেছে।

কিন্তু গোল বাধে ২০২০ সালের ৮ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের ভোট ঘিরে। ওই নির্বাচনে আরও বড় জয় নিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে মিয়ানমারের ক্ষমতায় আসে সু চির দল এনএলডি।

সেনা সমর্থিত বিরোধী দল থেকে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোটের ফল অস্বীকার করে নতুন নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হয়। এ নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চাপা উত্তেজনা ছিল। সোমবার নতুন সরকারের পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন বসার কথা ছিল। কিন্তু এদিন ভোরেই সু চি এবং প্রেসিডেন্ট মিন্টকে আটক করে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এরপর দেশজুড়ে ঘোষণা করে এক বছরের জরুরি অবস্থা।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন