• আজ মঙ্গলবার, ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৭ জুলাই, ২০২১ ৷

কক্সবাজারে অবৈধ যানের বেপরোয়া চলাচল, নিশ্চুপ প্রশাসন

coxbazar
❏ বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২১ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার থেকে: কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় দু’হাজার ডাম্পার (মিনিট্রাক) সহ বিভিন্ন রকম অবৈধ যানবাহন সড়কে বেপরোয়া চলাচল করছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসহ স্থানীয় সড়কগুলো ইটভাটার সহস্রাধিক মাটিবাহী ডাম্পার-ট্রলি-ট্রাক্টরের দখলে চলে গেছে।

পথচারীরা সড়কে বের হলেই ইটভাটার পড়ে থাকা মাটির ধুলাবালির শিকার হচ্ছে। ফলে পথচারীসহ জন সাধারণকে সার্বক্ষনিক আতংকের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। কিন্তু চোখের সামনে অবৈধ এই যানের অবাধ চলাচল দেখেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। ফলে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জেলার সর্বত্র।

জানা গেছে, জেলায় শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। ভাটাগুলোর ইট ও মাটি বহন করতে প্রায় সহস্রাধিক অবৈধ ডাম্পার-ট্রলি-ট্রাক্টর আছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ ডাম্পার-ট্রলি-ট্রাক্টারগুলো প্রতিদিন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চলাচল করছে।

প্রতিনিয়ত ডাম্পারগুলো মাত্রারিক্ত মাটি বহন করায় রাস্তায় মাটি পড়ে সয়লাভ হচ্ছে। এতে বিভিন্ন রকম যানবাহন চলাচলে মহাসড়কসহ স্থানীয় সড়কগুলো ধুলায় অন্ধকার হয়ে যায়। অনেক সময় ধুলার কারণে বিভিন্ন পথচারী ও স্থানীয় দোকানদারকে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

শুধু ডাম্পার-ট্রলি-ট্রাক্টর নয়, পুলিশ-প্রশাসনকে মাসিক চুক্তি করে নসিমন-করিমনসহ বিভিন্ন প্রকার প্রায় দুই হাজার অবৈধ যানবাহন গ্রামীণ ও মহাসড়কে চলাচল করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, চাষাবাদের জন্য আমদানীকৃত এই ট্রাক্টর অবৈধ ট্রলি-নছিমনসহ নানা পরিবহনে রুপান্তরিত হয়ে মানুষের সর্বনাশ করছে। আবাদি জমি ছেড়ে দাবড়ে বেড়াচ্ছে পৌরশহরসহ উপজেলার গ্রামীন জনপদে কিংবা বাজার কেন্দ্রিক সড়কগুলোতে। ড্রাইবিং লাইসেন্সসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা না থাকায় শিশু কিংবা কিশোররাও অদক্ষভাবে এসব ট্রাক্টর অবাধে চালাবার সুযোগ পাচ্ছে, ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা।

জেলায় প্রতিদিন ১ হাজারেরও বেশী ডাম্পার এবং ট্রলি বিভিন্ন ধরণের মালামাল নিয়ে অবাধে চলাচল করছে। এসব যান দিয়ে সাধারণত হালচাষ করা হয় এ ধরণের যানবাহন নিয়ম মোতাবেক কৃষি জমিতে চাষাবাদের কাজে ব্যবহার হয়। বাংলাদেশ মোটরযান আইনে পাকা রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের তালিকায় এর কোনো অস্তিত্ব নেই।

রামু কাউয়াখোপ এলাকার ব্যবসায়ী আবুল কালাম, জসিম উদ্দিন বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালীরা কাউয়ারখোপে ঘর-বাড়ি ঘেষে একই স্থানে চার পাঁচটি ইটভাটা চালাচ্ছে। এই ভাটাগুলোতে প্রায় ৯০-১০০টি মাটিবাহী অবৈধ ডাম্পার-ট্রাক্টর দেদার চলছে। ডাম্পার এবং ট্রাক্টরগুলো বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি বোঝাই করে যাতায়াত করছে। আর অতিরিক্ত মাটিগুলো সড়কে পড়ছে। শুধু ধুলার কারণে দোকানদারি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়গুলো পুলিশ-প্রশাসনকে একাধিকবার বলা হলেও তারা কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না।

পথচারী শাকিল বলেন, অবৈধ যানবাহন ও ধুলাবালির কারণে রাস্তায় বের হতে ভীষণ অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। সড়কের কোনো গাড়ি গেলেই ধুলায় অন্ধকার হয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইটভাটার মালিক বলেন, “অবৈধ ডাম্পার-ট্রলি-ট্রাক্টর ও ইটভাটা চালাতে সমিতির মাধ্যমে পুলিশ-উপজেলা প্রশাসনসহ কয়েকটি সংস্থায় মাসোয়ারা টাকা দিতে হয়। এছাড়া মাঝে মধ্যে বিভিন্ন অভিযান রোধে আমরা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে থাকি। কোনো সময় ভাটার মালিকরা টাকা দিতে দেরি করলে প্রশাসনিক অভিযান শুরু করে। ভাটার ডাম্পার-ট্রলি-ট্রাক্টর আটক করে রাখে।”

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রকিবুর রেজা বলেন, অবৈধ ট্রাক্টর ও যানবাহন ধরতে ইতিমধ্যে আমরা অভিযান শুরু করেছি।

‘তবে নতুন এসেছি বলে সবকিছু বুঝে উঠতে একটু সময় লাগতেছে। কয়েক দিনের মধ্যে মাটিবাহী ট্রাক্টর ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে’ বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন