সু চি’কে ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে সামরিক সরকার

১০:৩৪ পূর্বাহ্ন | বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২১ আন্তর্জাতিক
Suchi

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- মিয়ানমার ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চি’র বিরুদ্ধে অবৈধভাবে যোগাযোগ সরঞ্জাম আমদানি এবং ব্যবহারের অভিযোগে মামলা করে দুই সপ্তাহের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।

সু চির বিরুদ্ধে অভিযোগ- তিনি আমদানি-রপ্তানির আইন লঙ্ঘন করেছেন এবং রাজধানী নেইপিদোতে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। যা অবৈধভাবে আমদানি এবং অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হয়েছে।

সাক্ষী এবং অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ, আরও তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সু চি’কে আটক রাখার জন্য বুধবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) আদালতে আবেদন জানানো হয়।

আলাদা একটি নথিতে দেখা যায়, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থাপনা আইন ভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ মামলা করেছে।

এনএলডির প্রেস কর্মকর্তা কি তোয়ে ফেসবুক পোস্টে বলেন, এক থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অং সান সু চি আটক থাকবেন। আমরা নির্ভরযোগ্য তথ্য পেয়েছি যে, দাখিনাথিরি আদালত আমদানি-রপ্তানি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে করা মামলায় রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, দেশের ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মামলায় ইতোমধ্যে পুলিশি রিমান্ডে রয়েছেন।

পুলিশের নথিপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, নাইপিদোর একটি পুলিশ স্টেশনে থাকা ওই নথিতে বলা হয়েছে, যে সামরিক কর্মকর্তারা সু চির বাসভবনে অভিযান চালিয়েছেন তারা সেখানে একটি ওয়াকিটকি পেয়েছে। এটি অবৈধভাবে আমদানি করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করা হয়েছে।

সোমবার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। ২০২০ সালের ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতের অভিযোগ নিয়ে এনে ফল প্রত্যাখ্যান করেছিল সেনাবাহিনী। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিবাদের জের ধরে গত সপ্তাহেই অভ্যুত্থানের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনে বিজয়ী অং সান সু চিসহ তার দলের নেতাদের গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।

এদিকে সেনাবাহিনীর হাতে আটকের পর থেকে সু চিকে আর দেখা যায়নি। তিনি কোথায় আছেন, তা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও পাওয়া যায়নি। সু চিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সামরিক বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এনএলডি। দলটি ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে তাদের জয়ের স্বীকৃতি দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে।

এনএলডির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, সু চি রাজধানী নেপিদোতে গৃহবন্দি আছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এক ফেসবুক পোস্টে এই নেতা জানিয়েছেন, সু চি ‘শারীরিকভাবে ভালো আছেন’ এবং তাকে সরিয়ে নেওয়া হবে না বলে তিনি জেনেছেন।

এর আগে আরেক পোস্টে সু চি তার বাড়িতেই আছেন বলে জানানো হয়েছিল। আরও তথ্যের জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় রয়টার্স।