চাঁদপুরের হাইমচরে লঞ্চ আছে, ঘাট নেই!

১১:০৩ পূর্বাহ্ন | শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৬, ২০২১ চট্টগ্রাম, ফিচার
ghat

মাহফুজুর রহমান, চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় লঞ্চযাত্রীদের দুর্ভোগ সীমাহীন। ঢাকা থেকে হাইমচরে আসা লঞ্চগুলো সময়মতো এসে ভিড়লেও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে নেই পল্টুনের ব্যবস্থা। এতে ঝুঁকি নিয়েই কাঠের সিঁড়ি লাগিয়ে যাত্রী উঠানামাসহ মালামাল লোড-আনলোড করতে হয়।

শুধু তাই নয়, চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যাত্রীরা লঞ্চে উঠতে গিয়ে হরহামেশাই মারাত্নক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এছাড়াও, জরুরী মুহূর্তে গর্ভবতী নারী ও রোগীরা রাজধানীর উদ্দেশ্যে লঞ্চে উঠতে গেলে দূর্বিষহ কষ্ঠের সম্মুক্ষীন হন।

উপজেলার উত্তর আলগী ইউনিয়নের কাটাখালী বাজার, তেলির মোড়, হাইমচর বাজার ও চরভৈরবী ইউনিয়নের মাছ ঘাট সংলগ্ন নদীর পাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে নোঙর করে লঞ্চগুলো। নদীতে বাঁঁধ দেয়ার সময় নয়ারহাট ও কাটাখালী লঞ্চঘাট স্থানান্তরিত করা হলেও পরবর্তীতে ঘাটটি আর প্রতিস্থাপন করেনি কতৃপক্ষ। স্পটগুলোতে দীর্ঘদিন যাবত ইজারা দিয়ে রাজস্ব আদায় করা হলেও যাত্রীদের উঠানামার জন্য কোন পন্টুনের ব্যবস্থা করা হয়নি।

ঢাকা থেকে হাইমচরের লঞ্চযাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র বাস্তবে রূপ নিলেও বিআইডব্লিউটিএ’কে কয়েক দফা অবহিত করলেও তারা পন্টুনের ব্যবস্থা করেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এক্ষেত্রে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও দায়িত্ব অবহেলার কথা উল্ল্যেখ করে তারা জানান, ‘হাইমচরে রেকর্ড পরিমান উন্নয়ন করা হলেও আমাদের এই দূর্ভোগের চিত্র নিত্যদিন। উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ কর্ম ও ব্যবসায়ী কাজে ঢাকায় আসা যাওয়া করেন। পল্টুন না থাকায় লঞ্চগুলো নদীর পাড়ে এসে নোঙ্গর ফেলার কারণে পাড় ভেঙে চৌচির হয়ে গেছে।

এছাড়া লঞ্চে কাঠের সিঁড়ি দিয়ে উঠার সময় অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই, অতিদ্রুত নৌপথে যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে ঘাটগুলোতে পল্টুন স্থাপন করার জোর দাবি জানান উপজেলাবাসী।

বিআইডব্লিউটিএ’র চাঁদপুর নদী বন্দরের উপ-পরিচালক এ.কে.এম কায়সারুল ইসলাম সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, ‘স্পটগুলো নিয়ে আমি এখনো লিখিত অথবা মৌখিক কোন অভিযোগ কিংবা চাহিদাপত্র পাইনি। নদীভাঙনের কারণে আমরা সবজায়গায় ঘাট করার সুযোগ পাইনি। তবে আপনি যে স্পটগুলোর নাম জানালেন, সেগুলো পরিদর্শন করে ১৫-২০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিবো। এবং নয়ারহাট ঘাট নিয়ে ইজারাদের সাথে আমার কথা হয়েছে। শিঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।