ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক উন্নয়ন কাজে ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ

tangail road

অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোটার- জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কের উন্নয়নমূলক কাজে ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ত্বরিতগতিতে স্থাপনা নির্মাণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দালালের যোগসাজশে মোটা অংকের টাকা উত্তোলনের পায়তারা চলছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা সড়কে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ৪ লেনে উন্নীতকরণ কাজ শুরু করা হয়। এরপর থেকে নগর জলফৈ ও তারটিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার একটি চক্র তাদের পতিত জমিতে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নামে মাত্র টিনের ঘর, ছাউনি ও ভবন নির্মাণ করে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা সড়কে অধিগ্রহণকৃত জমিতে অবৈধ স্থাপনা ও নতুন স্থাপনা না করার জন্য তারটিয়া এলাকার আহসান আলী খানের ছেলে দাউদ খান দিপু, আব্দুল মজিদ খানের ছেলে তারিকুল ইসলাম খান, মেছের আলী খানের ছেলে আজাহার আলী খান, নেধু খানের ছেলে মোকাদ্দেছ খান, আব্দুর রশিদ খানের ছেলে আইয়ুব খান, খন্দকার মাইনুদ্দিনের ছেলে খন্দকার রবিউল ইসলাম, আব্দুল রশিদ খানের ছেলে কাইয়ুম খান ও আতিকুর রহমান খানসহ কয়েকজনকে সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক-৫ (উ.বি.প্র.অ.দা.) সওজ মৃন্ময় সাহা স্বাক্ষরিত চিঠি দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সওজ প্রকল্প অধিগ্রহণভুক্ত জায়গায় আপনি ইমারত-ভবন নির্মাণ করছেন। হাইওয়ে অ্যাক্ট-১৯২৫ ও সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুসারে মহাসড়কের পাশে রাইট অফ ওয়ে থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত এলাকায় কোনো স্থাপনা তৈরি করা যাবে না। ওখানে স্থাপনা নির্মাণের শুরু থেকে আপনাকে বিরত থাকার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও আপনি তা আমলে নিচ্ছেন না। এই অংশে নির্মিত অবৈধ স্থাপনার জন্য আপনি কোনো ক্ষতিপূরণ পাবেন না।

চিঠি পেয়েও আইনের তোয়াক্কা না করে স্বপন নামের এক দালালের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এলএ শাখার কানুনগো পরিমল চন্দ্র পালসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ওই ব্যক্তিরা সদ্য নির্মাণকৃত ঘরের ক্ষতিপূরণ হিসেবে টাকা পাওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত হন। তারটিয়া এলাকায় দাউদ খান দিপু ও তারিকুল ইসলাম খান পুরাতন বিল্ডিংয়ের সঙ্গে মহাসড়ক ঘেঁসে যৌথভাবে ত্বরিতগতিতে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঘর নির্মাণ করেন। ক্ষতিপূরণ হিসেবে অবকাঠামোর ধার্যকৃত মূল্য হিসেবে তারা দুইজনে পাচ্ছেন ১ কোটি ৯৫ লাখ ৬৯ হাজার ৩৪৮ টাকা।

স্থানীয়রা জানান, তারটিয়া এলাকায় দাউদ খান দিপু ও তারিকুল ইসলাম খান পুরাতন বিল্ডিংয়ের সঙ্গে মহাসড়ক ঘেঁসে যৌথভাবে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে বিল্ডিং নির্মাণ করেন। বিল্ডিংটিতে কোন ফাউন্ডেশনও দেয়া হয়নি। দালাল স্বপনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মোটা অংকের টাকা পাওয়ার জন্য তারা এটি স্থাপন করেন। ওই এলাকায় একাধিক ব্যক্তি অধিগ্রহণের কথা শুনে ত্বরিতগতিতে ঘর নির্মাণ করেছেন। তারাও এখন টাকা পাচ্ছেন। এ ছাড়াও আজাহার আলী খান নামের এক ব্যক্তি একটি টিনের দু’চালা ঘরের মূল্য পেয়েছেন ১৯ লাখ টাকা। অথচ পাশেই আজম খান নামের এক ব্যক্তির ২০১৫ সালে চারতলা ফাউন্ডেশনের একটি বিল্ডিংয়ের মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ৭৭ লাখ টাকা। বিষয়টি তদন্ত করে টাকা হস্থান্তরের দাবি জানান সচেতন মহল।

ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক খান বলেন, ‘আমার জমিতে তিনতলা ফাউন্ডেশনের একটি বিল্ডিং নির্মাণ করি। আমার জমিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো পরিমল চন্দ্র পাল ঘুষ নিয়ে নাছির হোসেন নামের আরও একজনকেও অংশীদার বানিয়েছেন। অথচ জমিটির সকল কাগজপত্র আমার নামে। বারবার নাছির হোসেনের নাম কর্তনের জন্য বলা হলেও ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তা পরিমল চন্দ্র পাল নামটি কর্তন করছেন না। তিনি বিভিন্ন আইনি জটিলতা দেখাচ্ছেন’।

অন্যদিকে সদ্য নির্মাণকৃত স্থাপনার মালিক দাউদ খান দিপু ও তারিকুল ইসলাম খান বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত দালাল স্বপনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয়ে ঘরের কথা তুলতেই তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এলএ শাখার কানুনগো পরিমল চন্দ্র পাল বলেন, ‘স্যারের অনুমতি ছাড়া কোনও তথ্য দেয়া যাবে না।’ এ সময় অধিগ্রহণকৃত জমিতে অবৈধ স্থাপনা ও নতুন স্থাপনার মালিকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা তুলতেই তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক-৫ (উ.বি.প্র.অ.দা.) সওজ মৃন্ময় সাহা বলেন, ‘২০১৯ সালে কিছু লোক অধিগ্রহণভুক্ত জমিতে স্থাপনা তৈরি করছিলেন। সরকারি অর্থ বাঁচাতে আমরা ওই সময় তাদের নিষেধ করে ছিলাম। পরে লিখিতভাবে তাদের চিঠি দেওয়া হয়। এরপর তাদের নামের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে দেয়া হয়’।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মোছা. নুর নাহার বেগম বলেন, ‘সাসেকের কাগজের ব্যাপারে কিছু বলতে পারছি না, আমি এখানে নতুন এসেছি’।

তবে আইনে বলা হয়েছে, চার ধারা নোটিশ করার পর থেকে কেউ সেখানে কোনও স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। চার ধারা নোটিশ জারি হওয়ার পর যাবতীয় স্থাপনা নির্মাণ বা সেখানে যে কোন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। সেটা হলে তারা কোনভাবেই ক্ষতিপূরণ পাবে না।

◷ ১২:২১ অপরাহ্ন ৷ সোমবার, ফেব্রুয়ারী ৮, ২০২১ ঢাকা