এবার একই দিনে বাঙালি ভালোবাসা দিবস ও পয়লা ফাল্গুন উদযাপন করবে

১২:২৫ অপরাহ্ন | শনিবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২১ স্পট লাইট

ফয়সাল শামীম, সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: একই দিনে বাঙালি ভালোবাসা দিবস ও পয়লা ফাল্গুন উদযাপন করবে। আর বাঙালিয়ানার খাতিরে পয়লা ফাল্গুনে সবাই হলুদ বা সুবজ শাড়িতেই নিজেদের জড়িয়ে রাখেন নারীরা। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। তবে ভালোবাসা দিবসে আবার অনেকেই লাল পোশাক পরতে পছন্দ করেন।

তাই এবারের ১৪ ফেব্রয়ারিতে সবাই যেমন খুশি তেমন পোশাকই পরতে পারেন। কেউ চাইলেই পরতে পারেন হলুদ-সবুজ বা কেউ লাল শাড়ি।

অন্যদিকে পুরুষরাও হলুদ পাঞ্জাবি, লাল বা যেকোনো রঙের পোশাক পরেই দিনটি উদযাপন করতে পারেন।

ইতিহাসবিদদের মতে, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম `ভ্যালেনটাইনস ডে` করা হয়। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদন্ড দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেনটাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন `ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন`। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেনটাইনস ডে হিসেবে পালন করা শুরু করেন। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

ভ্যালেনটাইনস ডে সর্বজনীন হয়ে ওঠে আরো পরে প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে রয়েছে আরো একটি কারণ। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মৃত্যুর আগে প্রতি বছর রোমানরা ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করত `জুনো` উৎসব। রোমান পুরানের বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনোর নামানুসারে এর নামকরণ। এ দিন অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে তার নাচের সঙ্গীকে বেছে নিত। ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীতে পরিণত হয় তখন `জুনো` উৎসব আর সেন্ট ভ্যালেনটাইনের আত্মত্যাগের দিনটিকে একই সূত্রে গেঁথে ১৪ ফেব্রুয়ারি `ভ্যালেনটাইনস ডে` হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। কালক্রমে এটি সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে বসন্ত ঋতু লুকিয়ে আছে ফাল্গুন ও চৈত্র মাসের ভেতর। তবে অনুভবের জায়গা থেকে বলতে গেলে শুধু ফাল্গুন মাসের কথাই বলতে হবে। বাংলা বছর গণনায় ফাল্গুন ১১তম মাস হলেও কালের আবর্তনে এবং ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এটি শুধু একটি মাসের নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

ফাল্গুনের হাত ধরেই ঋতুরাজ বসন্তের আগমন। ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতির আজ এত বর্ণিল সাজ। বসন্তের এ আগমনে প্রকৃতির সাথে তরুণ হৃদয়েও লেগেছে দোলা। সর্বস্তরের মানুষ বিশেষত তরুণ-তরুণী বসন্ত উৎসবে আজ মেতে উঠবে। শীতকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়েই বসন্তবরণে চলবে ধুম আয়োজন। পাতা ঝরা শীত শেষে আর বসন্ত আসবে ফুলের ডালা সাজিয়ে। বাসন্তি ফুলের পরশ আর সৌরভে কেটে যাবে শীতের জরা-জীর্ণতা।

বসন্তকে সামনে রেখে গ্রামবাংলায় মেলা, সার্কাসসহ নানা বাঙালি আয়োজনের সমারোহ থাকবে। ভালোবাসার মানুষেরা মন রাঙাবে বাসন্তি রঙেই। তবে শীতের রেশ ধরে বসন্তে চলবে পিঠা উৎসব।