সরকারের আর সময় নেই: গয়েশ্বর

৬:০১ অপরাহ্ন | সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২১ জাতীয়
goyesso

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- বর্তমান সরকারের আর সময় নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

সোমবার দুপুরে এক বিক্ষোভ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় ঢাকা জেলার উদ্যোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ সভা হয়।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, জিয়াউর রহমানের খেতাবে হাত দিলে সেই হাতে ফুসকা ফুটবে, আগুনে পুঁড়ার মতো ছাঁই হয়ে যাবে। এরা যে কত বড় একটা মহা কলঙ্কের তিলক নিজেদের কপালে আঁকার চেষ্টা করছে- এখনো বুঝছে না। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনেই এই সরকারের প্যাথলজি টেস্ট হয়ে গেছে। সরকারের আর সময় নেই।

গয়েশ্বর বলেন, “এই দেশটা প্রজাতন্ত্রের, সেই প্রজাতন্ত্রের নাম বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মালিক জনগণ। সেই জনগণের মালিকানা ফেরত আনার জন্যই আমাদের আগামী দিন পথ চলতে হবে।

“তাতে বাধা আসবে, বাধা অতিক্রম করতে হবে। লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। সেই গণতন্ত্রের বাংলাদেশ, জিয়ার বাংলাদেশ জনগণের সামনে হাজির করতে হবে। এটাই হবে আমাদের জন্য বেস্ট রিভেঞ্জ। আমাদের অন্য কোনো প্রতিশোধ নাই। ইনস্টিড অব ডেমোক্রেসি ইজ দা বেস্ট রিভেঞ্জ ফর দা বিএনপি ফর খালেদা জিয়া, তারেক রহমান অ্যান্ড অল অব দা পিপলস এ্যাজওয়েল এ্যাজ। আমরা সেই প্রতিশোধের নেশায় মেতে উঠি, গণতন্ত্রকে ফেরত আনি।”

সরকারের দমনপীড়নের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুমিকার কঠোর সমালোচনা করে তাদেরকে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি হিসেবে ‘নিরপেক্ষ’ ভুমিকা পালনের আহবানও জানান তিনি।

প্রতিবেশী দেশের তল্পিবাহক সরকার হিসেবে আখ্যায়িত করে গয়েশ্বর বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক সরকারের সংঘা হলো, বাই দি পিপল, ফর দি পিপল, অব দি পিপল। আমি বছর ৭/৮ আগে বলেছিলাম যে, সি গর্ভামেন্ট নট বাই দি পিপল, নট ফর দি পিপল, নট বাই দি পিপল। দিস গর্ভামেন্ট বাই দি ইন্ডিয়া, ফর দি ইন্ডিয়া, অব দি ইন্ডিয়া।”

‘‘সুতরাং আজকে যা কিছুই হচ্ছে সে বিষয়ে ভারতের একটি অংশ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে না পেলেও মনের দিক থেকে তারা এই দেশটাকে শোষন করছে। শোষনের যে ক্ষেত্রস্থল তৈরি করার দায়িত্বটা শেখ হাসিনার নিয়েছেন। সেই কারণে বংশ পরমপরায় শেখ হাসিনা অর্থাত এই দলটি যেন তাদের খেদমতে সমসময় নিয়োজিত থাকতে পারেন সেজন্য তাদের একটা চেষ্টা আছে। জনগন তাদের সমর্থন করলো কি করলো না সেটা তাদের কাছে বড় বিষয় না।”

বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের মানুষ জেলখানার মধ্যে না থাকলেও এক ধরণের অদৃশ্য একটা ভাব আছে। কে কখন গুম হয়ে যায়। আল জাজিরায় এক প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর থেকে সরকার ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা দিল্লি সফর করছেন। আসলে এই সরকারের ক্ষমতার উৎস জনগণ নয়। এভাবে করে আর ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে, কর্মসূচির কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। আমাদেরকে জায়গা দেবেন না। এই বিস্তৃত বাংলাদেশে একাত্তরের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানিরা জায়গা দেয়নি। মুক্তিযোদ্ধারা লুঙ্গি পরে স্ট্যান গান নিয়ে ধান খেত, গম খেত, খালে-বিলে থেকে ওদেরকে প্রতিহত করেছে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘‘আপনারা প্রেস ক্লাবের সামনে হামলা করবেন, আপনারা পার্টি অফিসের সামনে হামলা করবেন, আপনারা রাজশাহীতে হামলা করবেন, আপনারা চট্টগ্রামে হামলা করবেন। আমাদেরও ধান ক্ষেত আছে, আমাদেরও খাল-বিল-নদীনালা আছে। প্রত্যেকটি জায়গা আমাদের দূর্গ, সেই সব দূর্গ থেকে আপনাদেরকে মোকাবিলা করা হবে।”