গুলিস্তানে পাগল নাচলেও বিএনপির সমাবেশের চেয়ে বেশি লোক হয়: তথ্যমন্ত্রী

১০:৪৪ অপরাহ্ন | সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২১ জাতীয়

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: গুলিস্তানে পাগল নাচলেও বিএনপির সমাবেশের চেয়ে বেশি লোক জড়ো হয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, ‘প্রেসক্লাবের সামনে কয়েকশ লোকের সমাবেশ করে বিএনপি বলে বিশাল সমাবেশ করেছে। দুই কোটি মানুষের ঢাকা শহরে কয়েকশ’ মানুষের সমাবেশ যদি বিশাল সমাবেশ হয়, তাহলে বুঝতে হবে, বিএনপি’র পৃথিবীটা ছোট হয়ে আসছে এবং তারা জনগণ থেকে কতটা বিচ্ছিন্ন।’

এসময় তিনি বিএনপির সব নেতাকর্মীকে করোনা টিকা গ্রহণ করে সুস্থ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আপনারা সুস্থ থাকুন, আমাদের বিরোধিতা করুন, কারণ একটি বিরোধী দল দেশে প্রয়োজন আছে।

সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে তথ্যমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেছেন।

সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতারা অভিযোগ করেন, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিএনপি আজ ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে। এসময় ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থেকে তা প্রতিহত করার আহ্বান জানান তারা।

ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষা করেছিল। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের প্রতিষ্ঠা করেছিল। ১৯৯৬ সালের ‘১৫ ফেব্রুয়ারি মার্কা’ নির্বাচন বাংলার মাটিতে আর করতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আল-জাজিরার বানানো মিথ্যা প্রতিবেদন দেশের মানুষ ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। এমনকি বিশ্ববাসীও এসব বিশ্বাস করেনি।

তথ্যমন্ত্রী ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আজ বিএনপির নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন করে, অথচ এ দলের জন্ম হয়েছিল অগণতান্ত্রিকভাবে। করোনা পরিস্থিতি সরকার যেভাবে মোকাবিলা করেছি, তাতে বিএনপির মাথা খারাপ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন হাছান মাহমুদ। প্রথমে টিকা দেশে আনতে পারব না বলে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করেছে বিএনপি। পরবর্তীতে টিকা দেওয়া নিয়ে গুজব ছড়ায় তারা।

বিএনপি ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে বিএনপি এখন ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন সেই ষড়যন্ত্রের অংশ। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

যুগ্মসাধারণ সম্পাদক দীপু মনি বলেন, যারা নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল তাদের মুখে গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না শোভা পায় না। শুধুমাত্র নির্বাচন ব্যবস্থা নয়, তারা এক কোটি ২০ লাখ ভুয়া ভোটার তৈরি করেছিল।

দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক নানক বলেন, যথাযথ কারণে জিয়ার খেতাব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন করেছে, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসন করেছে। এদেশের স্বাধীনতার চেতনা ধ্বংস করেছিল এরা। এদের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন আহ্বান জানান নানক।

সভাপতিমণ্ডলীর অপর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিএনপি আজ গণতন্ত্রের জন্য কান্না করে, নিজেদের মিটিংয়ে লোক হয়না সে জন্য দোষ দেয় আওয়ামী লীগকে।

দেশের মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ৯৬ এর পর থেকে শেখ হাসিনা অগ্রযাত্রায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যার মাধ্যমে দেশের মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নত হচ্ছে।