মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে কঠোর হুশিয়ারি জাতিসংঘের

১২:১২ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০২১ আন্তর্জাতিক
suchi

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- মিয়ানমারের বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর হলে সেনাবাহিনীকে মারাত্মক ফল ভোগ করতে হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ।

১ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর মঙ্গলবার থেকে দেশটিতে দ্বিতীয় দফায় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন শহরের সড়কে সড়কে সেনবাহিনীর সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর খবরও পাওয়া গেছে।

সেনবাহিনীর এমন উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ অধিকারকে যেন অবশ্যই পুরোপুরি সম্মান করা হয় এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতিহিংসার শিকার যেন না করা হয় তা নিশ্চিত করতে চাপ দিয়েছেন মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত শানার বার্জেনার।

‘মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে তিনি জানান, বিশ্ব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কঠোর কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখানো হলে পরিণতি মারাত্মক হতে পারে।’

এদিকে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে ধরপাকড় চালাতে মিয়ানমার সরকার যে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে, তার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উপ-কমান্ডার সোই উনের সঙ্গে কথা বলার কথা জানিয়েছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে জাতিসংঘের বিশেষ দূত শানার বার্জেনার। তিনি বলেন, নেটওয়ার্ক ব্ল্যাকআউট করে দেওয়ায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ খর্ব হবে।

এতে ব্যাংকিংসহ গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক খাতগুলো ক্ষতির মুখে পড়বে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ রাখলে অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা বাড়বে। কাজেই এ বিষয়ে আমরা পরিষ্কারভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছি।

এদিকে এই আলাপ সম্পর্কে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বলেছে, সামরিক কর্তৃপক্ষের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি সোয়ে উইন জাতিসংঘের দূতের সঙ্গে প্রশাসনের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন। ‘মিয়ানমারের যা ঘটছে সেই সত্যিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে’ জাতিসংঘের দূতকে তথ্য দেওয়া হয়েছে।

গত ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে সু চির দল এনএলডি নিরঙ্কুশ জয় পায়। এনএলডি নিরঙ্কশ জয় পেলেও সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। তারা নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ওইদিন ভোরে অং সান সু চি ও দেশটির প্রেসিডেন্টসহ এনএলডির শীর্ষ বেশ কিছু নেতাকে গ্রেপ্তারের পর এক বছরের জন্য মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি করে সেনাবাহিনী। এর পর থেকে টানা সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে টানা বিক্ষোভ চলছে দেশটিতে।

রোববার রাতে মিয়ানমারের প্রধান শহরগুলোতে সাঁজোয়া যান ও সেনা মোতায়েন করা সত্ত্বেও অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়ে রাস্তায় নামে বিক্ষোভকারীরা। তারা কারাবন্দি নেত্রী অং সান সু চিসহ অন্যান্যদের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদকারীরা সোমবার ফের বিক্ষোভ দেখান। তবে আগের দিনগুলোতে হাজার হাজার প্রতিবাদকারী রাস্তায় নেমে এলেও এদিন তাদের সংখ্যা কম ছিল।

মঙ্গলবার ভোর থেকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাইরে ফের জড়ো হতে শুরু করেছেন বিক্ষোভকারীরা। সোমবার দ্বিতীয় রাতের মতো ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় মিয়ানমারের সেনা কর্তৃপক্ষ। এতে অভ্যুত্থান বিরোধীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

সেনাবাহিনী তাদের তল্লাশি ও আটক করার ক্ষমতার আইনি সীমাবদ্ধতাগুলো স্থগিত করার পর রাতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া উদ্দেশ্যমূলক বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় ‘অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার’ নামে এক গোষ্ঠী বলেছে, নির্বিচারে গ্রেপ্তারসহ অন্যায় তৎপরতা চালানোর জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে সোমবার পর্যন্ত ৪২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে।