সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উত্তপ্ত কক্সবাজার শহর

cozbajar

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার সংবাদদাতা: কক্সবাজার পৌরসভার কর্তৃক নতুনভাবে টমটমে দেয়া লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও ট্রাফিক পুলিশের ধরপাকড়ের প্রতিবাদে শহরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলাকালে টমটম চালকদের সঙ্গে পুলিশ ও ধর্মঘট বিরোধীদের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ধর্মঘট চলাকালে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্যানেল মেয়র মাহবুবুর রহমানকে হামলার জের ধরে শহরের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে আহত মাহবুবুর রহমানসহ বেশ বেশ কয়েক জনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সকাল থেকে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করছে বিক্ষুব্ধ মানুষ। ঘটনার প্রতিবাদে ধর্মঘট আহবান করেছে ব্যবসায়ীরা। বুধবার ভোর সকাল থেকে এ ধর্মঘট পালন করছে টমটম মালিক-চালকদের বিভিন্ন সংগঠন। এতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে পৌরবাসী।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কক্সবাজার পৌরসভার পক্ষে লাইন্সেনবিহীন ব্যাটারি চালিত ইজি বাইক (টমটম) চলাচলে কড়াকাড়ি আরোপ করা হয়। এতে বেশ কিছু লাইসেন্সবিহীন টমটম আটক করা হয়। এর জের ধরে টমটম মালিক সমিতির নেতা রুহুল কাদের মানিকের নেতৃত্বে ২০/৩০ জন টমটম চালক পৌরসভার গেইটের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে।

ওই সময় কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র মাহাবুবুর রহমান জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে জানিয়ে তাদের সরে যেতে বলেন। কিন্তু বিক্ষোভকারী টমটম চালকরা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখলে মাহবুবুর রহমান তাদের উপর চড়াও হয়। ওই সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা রুহুল কাদের মানিকের নেতৃত্বে প্যানেল মেয়রের উপর হামলা চালায়। এতে মাহাবুব আহত হন।

এই ঘটনার জের ধরে শহরের কয়েকটি এলাকায় ধর্মঘট সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশ ও ধর্মঘটবিরোধীদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।

ঘটনার পরপর হামলাকারি মানিককে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনার পর পর কক্সবাজার শহরের দোকান মালিকরা ধর্মঘট শুরু করেছে। একই সঙ্গে শহরে দফায় দফায় মিছিল সমাবেশ করছে বিক্ষুব্ধ মানুষ।

অপরদিকে অবরোধ পালনকারী টমটম চালকেরা জানান, কক্সবাজার পৌরসভা নতুনভাবে ৫০০ টমটমের লাইসেন্স দেন। লাইসেন্স প্রতি নেয়া হয় ৮০ হাজার থেকে দেড় লক্ষ টাকা। পৌরসভার দেয়া এসব লাইসেন্স জেলা প্রশাসক ও ট্রাফিক পুলিশের অনুমোদন না থাকার অভিযোগে ধরপাকড় শুরু হয়। গত ৭ দিনে প্রায় ৩০০ টি টমটম জব্দ করেছে। টাকা নিয়ে লাইসেন্স নিয়েও তাদের টমটম ধরা হচ্ছে। তাই নিরুপায় হয়ে ধর্মটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বুধবার সকালে শহরের প্রধান কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোর সকাল থেকে সড়কে একটিও টমটম নেই। গুটি কয়েক যারা টমটম নিয়ে নেমেছিল মোড়ে মোড়ে চালকেরা তাদের না চালানোর জন্য বাধা দিচ্ছে। এসময় চালকেরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে এতে প্যানেল মেয়র মাহবুবুর রহমান তাদের বাধা প্রধান করেন।

এদিকে ব্যবসায়ী ও টমটম মালিক-চালকদের হঠাৎ এমন পাল্টাপাল্টি ধর্মঘটের সিদ্ধান্তে ভোগান্তিতে পড়েছে শহরবাসী। যানবাহন সংকট ও দোকান পাট বন্ধ থাকায় হাসপাতাল, অফিস-আদালতগামী মানুষ বিপাকে পড়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরে আসা মানুষ বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছে।

◷ ৪:২১ অপরাহ্ন ৷ বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০২১ চট্টগ্রাম
coxbazar- মিয়ানমারে কারাভোগ করে দেশে ফিরলেন ২৪ বাংলাদেশি

⊡ মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২১