সিলেটে সংঘর্ষ চলাকালে গুলি করার চেষ্টা করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

৬:৪৯ অপরাহ্ন | বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০২১ সিলেট
atok

আবুল হোসেন, সিলেট- সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মী ও পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষের সময় অস্ত্রসহ আটক ব্যক্তি সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। ফয়সল আহমদ ফাহাদ (৩৮) নামে আটক ওই যুবক সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসে্ক লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

ফাহাদ মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান বলয়ের নেতা বলে জানা গেছে।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) চৌহাট্টায় অবৈধ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড উচ্ছেদে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন সিটি করপােরেশনের কর্মীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মেয়র ও সিটি কাউন্সিলররা। এসময় কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানও মেয়রের সাথে চৌহাট্টা এলাকায় যান।

দুইপক্ষের সংঘর্ষের এক পর্যায়ে মেয়র কাউন্সিলরদের পাশ থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ফয়সল আহমদ ফাহাদ (৩৮) কে আটক করে পুলিশ।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষ নিয়ে বন্দুক নিয়ে তিনি মেয়রের দিকে তেড়ে গিয়েছিলেন। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও এমন অভিযোগ করেছেন।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফয়সল আহমদ ফাহাদ পরিবহন শ্রমিক নন। তিনি সেচ্ছাসেবক লীগের নেতা। এবং চৌহাট্টা এলাকায় মেয়রের সাথে যাওয়া কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানের ঘনিষ্টজন।

এ ব্যাপারে মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সিলেট মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশ দাশ মিঠু বলেন, ফয়সল আহমদ ফাহাদ মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক। তবে তিনি আজ অস্ত্রসহ আটক হয়েছে কী না তা আমার জানা নেই।

মিঠু বলেন, চৌহাট্টায় গাড়ির অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে গেছে সিটি করপোরেশন। সেখানে ঝামেলা হলে পুলিশ দেখবে। সে (ফাহাদ) ওই জায়গায় যাবে কেনো?

যদি আসলেই সে ওইখানে যায় এবং অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয় তাহে এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। দল এর দায় নেবে না। বরং তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।- বলেন মিঠু।

জানা যায়, বুধবার সকালে চৌহাট্টা এলাকায় সিরিকের সড়ক উন্নয়ন কাজে বাধা দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। এ খবর পেয়ে দুপুরে কাউন্সিলর, ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিস্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে যান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় তিনি দেখতে পান পরিবহন শ্রমিকরা তখনও সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গাড়ি পার্কিং করে রেখেছেন।

এসময় মেয়রসহ সিসিকের কর্মকর্তারা সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু করতে চাইলে তারা বাধা দেন। এ নিয়ে আলাপচারিতার একপর্যায়ে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের উপর হামলা চালায় পরিবহন শ্রমিকরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পরিবহন শ্রমিকদের হামলার পর পর সিটি করপোরেশনের কর্মীরাও পাল্টা হামলা চালায়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে পুলিশের উপরও হামলা চালায় শ্রমিকরা। এসময় অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাংচুর করা হয়। এবং চৌহাট্টা-আম্বরখানা, চৌহাট্টা-রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা-মিরবক্সটুলা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ (ট্রাফিক) কমিশনার ফয়সল মাহমুদ বলেন, সরকারি রাস্তা দখল করে যানবাহন রাখা হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে। কিন্তু সম্প্রতি সিসিকের উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ায় চৌহাট্টাস্থ এলাকার অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ড সরানোর জন্য বলা হলেও শ্রমিকরা যানবাহন না সরিয়ে বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আন্দোলন শুরু করে। এক পর্যায়ে সিসিকের কর্মী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।