কোম্পানীগঞ্জে কাদের মির্জার মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটা

১১:২১ পূর্বাহ্ন | শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ
kader mirza

সময়ের কণ্ঠস্বর, নোয়াখালী- নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বিচ্ছিন্ন সহিংসতায় পালন হচ্ছে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বসুরহাট পৌর মেয়র এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কাদের মির্জার নেতৃত্বে বের হওয়া হরতাল সমর্থকদের মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। হরতালের সমর্থনে চলছে বিক্ষিপ্ত পিকেটিং।

শনিবার সকালে হরতাল সমর্থকদের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জের ফলে সৃষ্ট উত্তেজক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোম্পানীগঞ্জে র্যাব, ডিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোম্পানীগঞ্জে দুজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কাদের মির্জার নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা লাঠিসোঁটা হাতে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করেন। মিছিলটি বসুরহাট রুপালি চত্বর থেকে থানার দিকে যায়। এ সময় থানার সামনে অবস্থানকারী পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় কাদের মির্জার।

একপর্যায়ে কাদের মির্জা মিছিল নিয়ে সামনের দিকে এগোতে থাকলে পেছন থেকে পুলিশ ধাওয়া দেয় এবং লাঠিপেটা করে। এ সময় মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে ছড়িয়ে গেলেও কাদের মির্জা সড়কের ওপর প্রায় আধা ঘণ্টা বসে থাকেন। পরে দলীয় ও পরিবারের লোকজন তাঁকে সেখান থেকে পৌরসভা কার্যালয়ে নিয়ে যান।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক সকাল নয়টার দিকে গণমাধ্যমকে বলেন, সকালে কাদের মির্জার নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে থানার দিকে হামলা করতে আসেন। এ সময় থানার সামনে অবস্থাকারী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে কাদের মির্জা অশালীন উক্তি ও মারমুখী আচরণ করেন। একপর্যায়ে কাদের মির্জা সমর্থকদের নিয়ে থানার ভেতরে ঢুকে পড়তে উদ্যত হলে পুলিশ ধাওয়া করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় কাদের মির্জা থানার সামনে সড়কের ওপর প্রায় আধা ঘণ্টা বসে থাকেন।

কয়েকদিন ধরে কাদের মির্জা নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী এবং ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর অপরাজনীতি বন্ধ করা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ওসি তদন্তকে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়ে থানা ঘেরাও, হরতাল, অবরোধ, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।

এ ছাড়া সম্প্রতি মেয়রদের শপথ অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় ফেনীর দাগনভূঁইয়া ও চট্রগ্রামে পর পর দুদফা হামলার শিকার হয়েছেন দাবি করে এর প্রতিবাদে এবং দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি করেও আন্দোলন করছেন কাদের মির্জা।

এদিকে গতকাল শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে এই হরতালের ডাক দেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।