• আজ ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পার্লার কর্মীকে দিয়ে দেহব্যবসা : সেই নারী কাউন্সিলর গ্রেফতার

১১:৫১ পূর্বাহ্ন | শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২১ আলোচিত, ঢাকা
atok

সময়ের কণ্ঠস্বর, গাজীপুর- গাজীপুরে বাসায় আটকে রেখে বিউটি পার্লার কর্মীকে (১৬) দিয়ে জোরপূর্বক দেহব্যবসা করানোর অভিযোগে গাসিকের আলোচিত নারী কাউন্সিলর রোকসানা আহমেদ রোজীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১।

শুক্রবার রাতে তাকে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে র‌্যাব-১’র পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাাহ আল-মামুন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, গতকাল শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখান এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায় গাজীপুর র‌্যাব-১ এর একটি দল। এ সময় ওই বাসা থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর (১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড) রোকসানা আহমেদ রোজীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

লে. কমান্ডার আরও জানান, বাসায় আটকে রেখে বিউটি পার্লার কর্মীকে দিয়ে জোরপূর্ক দেহব্যবসা কারানোর অভিযোগে কাউন্সিলর রোকসানা আহমেদ রোজী ও বাড়ির কেয়ারটেকার নুরুল হকসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জিএমপি’র বাসন থানায় মামলা দায়ের করেন ওই ভুক্তভোগী। ওইদিনই বাসন থানা পুলিশ নুরুল হককে গ্রেপ্তার করলেও ঘটনার পর থেকে কাউন্সিলর রোজী পলাতক ছিলেন।

উল্লেখ্য, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর (১৬, ১৭ ও ১৮ নং ওয়ার্ড) রোকসানা আহমেদ রোজীর মালিকানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় রহমান শপিং মলের আনন্দ বিউটি পার্লারে প্রায় চার মাস আগে চাকরি নেন ওই কিশোরী (১৬)।

পার্লারে চাকরির পাশাপাশি তাকে দিয়ে গ্রেট ওয়াল সিটি এলাকায় রোজীর ভাড়া বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এরপর ওই কিশোরীকে বাসায় আটকে রেখে বাড়ির কেয়ার টেকার নুরুল হকের সহযোগিতায় প্রায় দু’মাস যাবৎ বিভিন্ন সময়ে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করেন কাউন্সিলর রোজী।

এক পর্যায়ে মঙ্গলবার কৌশলে বাসা থেকে পালিয়ে যায় ভিকটিম। এ ঘটনায় জিএমপি’র বাসন থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে জবরদস্তি করে সেবা প্রদান ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার অভিযোগে কাউন্সিলর রোজী ও বাড়ির কেয়ার টেকার নুরুল হকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ভিকটিম।

কিশোরীর ভাষ্য, চাকরির শুরু থেকেই ওই কাউন্সিলর তাকে জিম্মি করে এ ব্যবসা করে আসছিলেন। অনেকবার সে চেষ্টা করেছে নিজেকে রক্ষা করতে। কিন্তু কাউন্সিল ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিরত রেখেছে।