• আজ ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করছে জাতি

১১:৩৯ পূর্বাহ্ন | রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২১ ফিচার
Probhat-Feri-

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- আজ ২১ ফেব্রুয়ারি। মহান ‘শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। হাতে হাতে বসন্তে ফোটা ফুল নিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর দিন। দিবসটি পালনে করোনাকাল হওয়ায় বরাবরের মত আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার ঘাটতি থাকছে না।

রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি একুশের মহান শহীদদের প্রতি এদিন শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি…’ গাইতে গাইতে শহীদ মিনারে সমবেত হচ্ছে সবাই।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালির রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল রাজপথ। রক্তের দামে এসেছিল মায়ের ভাষা বাংলার স্বীকৃতি। আর তার সিঁড়ি বেয়েই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল স্বাধীনতা। মহান একুশে তাই বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম সোপান।

সময়ের পরিক্রমায় বাঙালির ভাষার সংগ্রামের একুশ এখন পরিণত হয়েছে বিশ্বের সব ভাষাভাষীর অধিকার রক্ষার উপলক্ষে। দিনটি স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে।

প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গর্ব আর শোকের দিনটি পালন করে জাতি। যার সূচনা হয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে।

তবে মহামারির বাস্তবতায় ঈদ, পূজা পার্বণের মতো ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের আয়োজনটিও উদযাপিত হচ্ছে তুলনামূলক সীমিত পরিসরে। যে কারণে ভোর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখে মানুষের চিরাচরিত সেই ঢল দেখা গেছে কমই।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনার এলাকায় ভিড় খানিকটা বাড়লেও অন্য বছরের তুলনায় ছিল তা নগন্য। খন্ড খন্ড মিছিল থেকে গেয়ে ওঠা একুশের অমর পংক্তিগুলোও যেন চাপা পড়ে যাচ্ছিল মাস্কের নিচে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সরেজমিনে দেখা যায়, ঘড়ির কাটায় সকাল সাতটা। সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে শহীদ মিনারের দিকে আসছেন। কেউবা ফুলের তোড়া, কেউবা একটি ফুল, আবার কারো হাতে একটি পতাকা শোভা পাচ্ছে। তবে সবার মুখেই ধ্বনিত হচ্ছিল একুশের সেই গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি’।

করোনা মহামারীর মধ্যেই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হচ্ছে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষদের। মুখে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাছাড়া প্রতিটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৫ জন এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ জন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে আসতে পারবেন। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মাস্ক পরা নিশ্চিত করা হলেও সংগঠনের পক্ষ থেকে ৫ জনেরও বেশি ঢুকে পড়ছেন শহীদ মিনার

শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রায়হান আহমেদ বলেন, ‘যাদের আত্মত্যাগের ফলে বাংলা ভাষা পেয়েছি তাদেরকে আমরা স্মরণ করি। তারাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাই তাদের শ্রদ্ধা জানাতেই শহীদ মিনারে এসেছি’।

এর আগে একুশের প্রথম প্রহরেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহউদ্দিন ইসলাম। এরপর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা জানান তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী। এবার করোনার কারণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনারে সশরীরে আসেননি।