হারাগাছ পৌরসভা নির্বাচনে আ.লীগের বিরোধকে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি

haragas

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর- রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভার নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে। পঞ্চম ধাপে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে এই পৌরসভা নির্বাচন। গত পৌর নির্বাচনে অংশ নেয়া দুই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াও আওয়ামী লীগের একজন বিদ্রোহী প্রার্থী এবার মেয়র পদে লড়াই করছেন।

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। তবে বিদ্রাহী প্রার্থীও রয়েছেন শক্ত অবস্থানে। আর আওয়ামী লীগের বিরোধকে কাজে লাগিয়ে গত নির্বাচনে এক হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়া বিএনপিও ফায়দা লুটতে হিসাব কষছে।

হারাগাছ পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীরা হলেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী (নৌকা প্রতীক) ও বর্তমান মেয়র হাকিবুর রহমান, বিএনপির প্রার্থী (ধানের শীষ) মোনায়েম হোসেন ফারুক এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (নারকেল গাছ প্রতীক) এরশাদুল হক।

২০১৬ সালের পৌরসভা নির্বাচনেও বিএনপির মোনায়েম হোসেন ফারুক এবং আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ছিলেন হাকিবুর রহমান। সেবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ১২ হাজার ২৪২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। আর বিএনপির মোনায়েম হোসেন ফারুক পেয়েছিলেন ১১ হাজার ৮৪ ভোট। এবার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাদের ভোটব্যাংকে ভাটা পড়বে। আর এতে বিএনপির প্রার্থী সুবিধা পাবেন বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এরশাদুল হক হারাগাছ পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। সেই সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ মাজেদের ছোট ভাই তিনি। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

নির্বাচনী এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা বেশ জমে উঠেছে। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের কাছে। ব্যানার-পোস্টারে ছেঁয়ে গেছে চারপাশ।

হারাগাছ পৌর এলাকার ৪ নং ওয়ার্ডের নয়াটারী মহল্লার ব্যবসায়ী চমন মিয়া বলেন, মেয়র পদে তিন প্রার্থীরই জোর রয়েছে। তিনজনেই ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন। শেষ মুহূর্তে কে জয়ী হবেন তা বলা যাচ্ছে না।

৩ নং ওয়ার্ডের মধ্যপাড়া গ্রামের বিড়ি শ্রমিক আহিলা বেগম বলেন, শ্রমিক অধ্যুষিত এই এলাকার শ্রমিকদের কল্যাণে যে প্রার্থী কাজ করবেন তাকেই ভোট দেব।

সাধারণ ভোটারদের ভাষ্য, এই এলাকায় জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাংসদ বিশিষ্ট শিল্পাপতি রহিম উদ্দিন ভরসার বাড়ি। তিনি মারা যাওয়ার পর এলাকায় এখনো তার ব্যক্তি ইমেজসহ বিএনপির শক্ত জনসমর্থন রয়েছে। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নির্বাচনী এলাকা হারাগাছ এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি ও কাউনিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মায়ার বাড়িও এখানেই। তাই আওয়ামী লীগেরও যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

এদিকে সারাদেশের বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা জানান বিএনপির প্রার্থী মোনায়েম হোসেন ফারুক। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কাতো থাকবেই। তবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বিএনপির জন্য সুবিধা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলতে পারবে না বলে মনে করছেন মেয়র প্রার্থী হাকিবুর রহমান। তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই। তাই জনগণ পুনরায় নৌকা প্রতীককেই বেছে নেবেন। বিদ্রোহী প্রার্থী কোনো প্রভাব ফেলবে না, সব ঠিক হয়ে যাবে।

পঞ্চম ধাপে ২৮ ফেব্রুয়ারি হারাগাছ পৌরসভার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মেয়র পদে ৩ জন ছাড়া ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৪৮ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

◷ ১২:০৭ অপরাহ্ন ৷ রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২১ রংপুর