বগুড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

৪:৪৮ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২১ রাজশাহী
লাশ

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার জাহাঙ্গীরাবাদ ফুলতলা এলাকায় ফোরকান (৩৮) নামের এক যুবলীগ কর্মীকে দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে আহত করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে ২৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে মারা যায়।

নিহত ফোরকান শহরের ফুলতলা এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে। তার নামে হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল ৪টার দিকে ফুলতলা কাঁচা বাজারে একদল দুর্বৃত্ত ফোরকানকে ধাওয়া করে। ফোরকান দৌড়ে পালানোর সময় কাঁচা বাজারের অদূরে রাস্তায় পড়ে যায়। এসময় দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে মারা যায়।

এই হত্যাকান্ডের ব্যাপারে তাৎক্ষনিক ভাবে কোন কারণ জানা না গেলেও বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফোরকানকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বগুড়া শহরের এক সময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহীনের মামাতো ভাই ফোরকান। প্রতিপক্ষের হাতে শাহীন খুন হয়েছেন বেশ কয়েক বছর আগে। এই এলাকার আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহীনের প্রতিপক্ষ মজনু ও তার পরিবারের কয়েকজন খুন হয়েছেন গত ১০ বছরে। এরপর থেকে শাহীনের ছেলে লিখন ও ফোরকানের নেতৃত্বে এলাকায় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ তৈরি হয়। সেই গ্রুপের সাথে নিহত শাহীনের প্রতিপক্ষ মজনুর পরিবারের বিরোধ চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বগুড়া পৌরসভার নির্বাচন। সেই নির্বাচনে নিহত মজনুর ভাতিজা নাদিম ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন। কিন্তু ফোরকান নাদিমের বিপক্ষে মামুন নামের এক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। নাদিম এবং ফোরকান যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও তাদের মধ্যে পারিবারিকভাবে বিরোধ দীর্ঘদিনের।

এদিকে হত্যাকান্ডের পরপরই পুলিশ নাদিমকে গ্রেফতারের জন্য তার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু নাদিম ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে গেছে।

শাহজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সকাল পৌনে ৬টার দিকে ফোরকান মারা যায়। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি এবং এখন পর্যন্ত থানায় কেউ মামলা করেনি।