• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

তামিমার মুখোশ খুলে দেবেন রাকিব

১১:০০ অপরাহ্ন | বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২১ খেলা

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: নাসির হোসেন ও সদ্য বিবাহিত স্ত্রী তামিমা হোসেন তাম্মিকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা বেড়েই চলেছে। সব সমালোচনাকে উড়িয়ে দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নাসির ও তামিমা। সেখানে তামিমা দাবি করেছেন যে ২০১৬ সালে তিনি রাকিবকে ডিভোর্স দিয়েছেন।

বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বনানীতে বিয়ের বিষয়ে সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব দাবি করেন। সে সময় উপস্থিত ছিলেন নাসির ও তাদের আইনজীবী।

নাসির-তামিমার সংবাদ সম্মেলনের পরেই লাইভে আসেন তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হোসেন।

তামিমাকে আর ফেরত চান কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রাকিব হাসান জানান তিনি তামিমাকে আর চান না। তিনি বলেন, তামিমার এই মিথ্যা কথাগুলো ধরাই হচ্ছে আমার লক্ষ্য।

মিথ্যা কথা ধরে তার কী লাভ জানতে চাইলে রাকিব বলেন, মুখোশ খুলে লাভ আমার একার না, সমগ্র পুরুষ জাতির লাভ। যেসব বউরা এমন করতে চায়, যাদের চরিত্র ভালো না তারা সাবধান হবে। আর যারা অন্যদের বউকে নিয়ে যেতে চায় তারাও সাবধান হবে।

লাইভে সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে ২০১৭ সালের ২২ এপ্রিলের পর থেকে তামিমার সাথে তার ডিভোর্স হয়। এরপর থেকে তামিমা যে কাউকে বিবাহ করতে পারবেন। এ প্রশ্নের জবাবে রাকিব বলেন, নাসিরের স্ত্রীর সাথে যদি আমার ২২ এপ্রিল ডিভোর্স হয় তাহলে আমার কাছে থাকা এভিডেন্স অনুযায়ী ২০১৭ সালের ২৫ জুন লা-মেরিডিয়ান, ২০১৭ সালের ৮ জুলাই কাবাব ফ্যাক্টরিতে তার এবং তার বোনের সাথে কাটানো আমার এরকম অনেক ছবি আছে।

তিনি আরো বলেন, তার সাথে যদি আমার ডিভোর্স হয়ে থাকে তাহলে পেপারটা তো আমার কাছে শো করতে হবে। এখন আমি যদি ডিভোর্স কপি পাইতাম তাহলে আমি কেন তার নামে জিডি করতাম।

সন্তানকে জোর করে রেখে দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। এছাড়া সন্তানকে নিয়ে শাশুড়ির জিডি প্রসঙ্গে বলেন, তার মা-বাবা এক এসআইকে নিয়ে আমার দোকানে যায়। সেখানে গিয়ে বলে তারা একটি জিডি করেছে যে আমার নাতিকে সে নিয়ে আসছে। তখন আমার মার্কেটের সভাপতি এসে বলে আপনার নাতিকে রাকিব নিয়ে আসেনি, সে নিয়ে এসেছে তার মেয়েকে। আর আপনার নাতিকে যদি নিতে চান তাহলে তামিমাকে ফোন করে আসতে বলেন।

রাকিব আরো বলেন যে, তিনি (শাশুড়ি) চান না আমার মেয়ে আমার কাছে থাক। কারণ তিনি আমাকে পছন্দ করেন না।

এদিকে বিয়ে নিয়ে বিতর্কের ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসির হোসেন।

তিনি বলেন, এতদিন ও শুধু তামিমা ছিল, কিন্তু আজকে থেকে তামিমা হোসেন। আমি চাইব না কেউ কোনোভাবে ওর বিরুদ্ধে কিছু বলুক। যারাই যেখান থেকে কিছু বলবে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

সংবাদ সম্মেলনে নাসির বলেন, আমরা যা করেছি আইন ও ধর্ম মেনে করেছি। তামিমা ২০১৬ সালে রাকিবকে ডিভোর্স দেয়। এজন্য বিষয়টি নিয়ে অপ্রচার না করার অনুরোধ করেন তিনি।

এ বিষয়ে নাসির বলেন, আমরা সবার কাছে একটিই অনুরোধ, প্রকৃত তথ্য না জেনে গণমাধ্যমে ও ফেসবুকে যেসব তথ্য প্রচার করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। আজ তামিমার ক্ষেত্রে যা ঘটছে তা কাল আপনার ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। এজন্য অপপ্রচার না করার অনুরোধ করছি।

এর আগে বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নাসির হোসেন ও স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাম্মির আগের স্বামী মো. রাকিব হাসান। মামলায় আগের বিয়ে গোপন রেখে নতুন বিয়ে, অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যাভিচার ও মানহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালতে রাকিব হাসান এ মামলা করেন।

রাকিবের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, মামলায় তামিমা সুলতানা তাম্মিকে এক নম্বর ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে। দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪৯৪, ৪৯৭, ৪৯৮, ৫০০ এবং ৩৪ ধারায় এ মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বাদীর সঙ্গে ১ নম্বর আসামি তামিমা সুলতানার ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক ৩,০০,০০১ (তিন লক্ষ এক) টাকা দেনমোহর ধার্যে বিবাহ সম্পন্ন হয় এবং রেজিস্ট্রি হয়। বিয়ের পর থেকে বাদী ও ১ নম্বর আসামি স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করতে থাকেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের সংসারে বাদীর ঔরসে ১নং আসামির গর্ভে একজন কন্যা সন্তানের জন্ম হয়, যার নাম রাখা হয় তোবা হাসান, বয়স-৮ বছর। ১ নম্বর আসামি (তাম্মি) পেশায় একজন কেবিন ক্রু। তিনি সৌদি এয়ারলাইন্সে কর্মরত। চাকরির সুবাদে তিনি গত ১০ মার্চ সৌদিতে গিয়েছিলেন। করোনা মহামারির কারণে জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হলে সেখানেই অবস্থান করতে থাকেন।