রাঙামাটিতে তরমুজের বাম্পার ফলন, ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার আশঙ্কায় চাষিরা

১১:০৭ পূর্বাহ্ন | বুধবার, মার্চ ৩, ২০২১ চট্টগ্রাম

শহিদুল ইসলাম হৃদয়, রাঙামাটি- হ্রদ ও পাহাড়ে ঘেরা নৈশর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই পার্বত্য অঞ্চল। সবুজের অরন্যে ঘেড়া রাঙামাটি জেলার আনাচেকানাচে দেখা মিলে কৃষি নির্ভর সকল সম্প্রদায়ের মানুষের। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও রাঙামাটি শরের উপকন্ঠে চাষিরা চাষ করেছে মৌসুমি ফল তরমুজের। এশিয়ার সর্ব বৃহৎ কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসা জমিতে রসে টইটুম্বুর এই ফলের ফলন ভালো হওয়ায় হাসি ফুটেছে তরমুজ চাষিদের মুখে।

শহরের মগবান ইউনিয়নের তারিঙ্গে পাড়ার বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ছেয়ে আছে তরমুজের আবাদি ফসলে। বর্তমানে এই ফসলের ফল মোটা তাজা করতে সার কীটনাশক ও যাবতীয় কৃষি উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে, কয়েক মসের মধ্যে তরমুজ বাজার জাত করণের উপযোগী হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন এখানকার তরমুজ চাষিরা।

চাষি আব্দুর রহিম বলেন, তরমুজের খেতি করতে দুই-তিন লাখ টাকা খরচ করলে পাঁচ-ছয় লাখ টাকা পাওয়া যায়, আমরা এই জমিতে বছরের চার-পাঁচ মাস চাষ করতে পারি কারণ এই জমি পানিতে ডুবে থাকে। পানি থেকে ভেসে উঠলে আমরা তরমুজের চারা রোপণ করি, এবার আমাদের চাষের ফলনও ভালো হয়েছে, লাভবান হবো বলে তো আশা করছি বাকিটা আল্লাহর উপর।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমাদের পরিসংখ্যান মতে রাঙামাটি জেলায় এবছর ২ শ ৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, খুব সাম্প্রতিক সময়ে এর ফলন পাবে কৃষক ভাইয়েরা। এর মধ্যে আমাদের বেশিরভাগ তরমুজ হয় লংগদু উপজেলায়। তবে গত কয়েক বছর ধরে সদর উপজেলায়ও তরমুজের আবাদের প্রবণতা খুবই বাড়ছে। এবছরের আমাদের তথ্য মতে শুধু মাত্র রাঙামাটি জেলা সদরের ৪০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এ ধরণের আবাদ হতে থাকলে আমরা আশা করছি আমাদের কৃষক ভাইরা উপকৃত হবে এবং ফলন ও ভালো হবে বলে আশা করা যায়।

তিনি আরো বলেন, আমাদের কৃষক ভাইদের প্রশিক্ষণ এবং মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন সহায়তাসহ সকল প্রকারের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা।

উলেক্ষ্য, বছরের এই সময়টাতে হ্রদের পানি কমতে থাকায় দ্বীপগুলো পানির উপরে উঠে আসে আর সেই সময়টাই তরমুজ চাষ করার উপযোগী সময়। এবছর ফসলের উৎপাদিত ফলন ভালো দেখা গেলেও, বিক্রি করে কতটুকু লাভোবান হবে তা নিয়ে হতাশায় স্থানীয় তরমুজ চাষিরা।