সংবাদ শিরোনাম

ছাত্রলীগ নেতার প্যান্ট চুরির ভিডিও ভাইরাল!পাটগ্রামে ইউএনও’র উপর হামলা, আটক ৬আগের সব রেকর্ড ভেঙ্গে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৮৩ জনেরশফী হত্যা মামলা: মামুনুল-বাবুনগরীসহ ৪৩ জনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদনখালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় সারাদেশে দোয়া কর্মসূচিরোহিঙ্গা শিবিরে ফের অগ্নিকান্ডসালথায় তান্ডব: এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের সত্যতা মিলেনিশাহজাদপুরে কৃষকদের মাঝে হারভেস্টার মেশিন বিতরণচাঁদপুরে গণমাধ্যম সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিশ্রমিকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা না করলে আইনি পদক্ষেপ : শ্রম প্রতিমন্ত্রী

  • আজ ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শায়েস্তাগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে বন বিভাগের অফিসের কার্যক্রম

৪:৩০ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, মার্চ ৪, ২০২১ সিলেট
house

মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি- টিনে জং ধরেছে, ঘরের দেয়াল ভেঙ্গে পড়েছে। ফের কয়েকটি ইট লাগিয়ে কোনোরকম ঘরটি ভেঙ্গে পড়া থেকে রক্ষা করা একটি ঘর। দেখে মনে হতেই পারে পরিত্যক্ত একটি ঘর। কিন্তু না, এটি একটি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের উপজেলা অফিস।

বলছি, হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বন বিভাগের কার্যালয়ের কথা। দূর থেকে দেখতে অনেকটা গোয়ালঘর কিংবা পরিত্যক্ত কোন ভবন মনে হলেও কাছে গেলেই দেখা মিলে এ ঘরের ভিতরেই চারজন সরকারি কর্মকর্তা বসে নিত্য কার্য সম্পাদন করছেন। যে কোন সময়ে ভেঙ্গে পড়ার শঙ্কা থাকলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন কাজ করছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

কেবল এ ভবনই না, বন বিভাগের ৫টি ভবনের অবস্থাও একই। দীর্ঘদিন থেকে প্রবল ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও কোন কাজ হচ্ছে না। ফলে একদিকে যেমন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে কর্মকর্তা কর্মচারীদের অন্যদিকে ভাঙ্গা ঘরে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও সরকারি জিনিসপত্র চুরি হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বনবিভাগটি ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। শুরুর সময়ে যে ঘর বানানো হয়েছিলো তা দিয়ে এখনো চলছে। দীর্ঘদিন ধরে রেঞ্জ অফিসটির কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেঞ্জ অফিসের সামনে নেই কোন প্রতিরক্ষার সীমানা প্রাচীর। অফিসটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর তেমন কোন সংস্কার না হওয়ায় এ ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তিন ভবন ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে, তবুও সংস্কার করা হচ্ছেনা। এদিকে বাকি ভবনগুলোর অবস্থা ও সংকটময়।

রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ অফিসের রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্বে বাহুবলের পুটিজুরী বনবিট ও শায়েস্তাগঞ্জ বনজদ্রব্য পরীক্ষণ ফাঁড়ি দেখাশোনা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রেঞ্জ কর্মকর্তা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই অর্পিত দায়িত্ব পালন করার জন্যই কাজ করে যাচ্ছি। ভবনগুলোর অবস্থা করুন থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের টনক না নড়লে কি আর করার আছে।

শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জ অফিসের পাশেই পূর্ব লেঞ্জাপাড়ার প্রবীণ মুরব্বী হাজী খোরশেদ মিয়া বলেন সরকারি একটি অফিস ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে কেন, সরকার তো সবদিকেই সুদৃষ্টি দিচ্ছে, আশা করছি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙ্গে নতুন করে অফিসটির কাজ করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগের কাজ চলায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রাও।

এ ব্যাপারে পৌরসভার কাউন্সিলর মো. নওয়াব আলী জানান, ঠিক কি কারণে রেঞ্জ অফিসটি অবহেলিত আমি বুঝে উঠতে পারছিনা। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভেঙ্গে সীমানা প্রাচীরসহ একটি সুন্দর রেঞ্জ অফিস করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

শায়েস্তাগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল খালেক বলেন, আমাদের এ অফিসের সব গুলো ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সবগুলো ভবনকেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পরিত্যক্ত ঘোষণাকৃত ভবনগুলোতেই আমাদের অফিসের কার্যক্রম চলছে। আবাসিক ভবন গুলোর একই অবস্থা।কেবল তাই না, নানা সংকটের কথাও জানালেন এ কর্মকর্তা।

আব্দুল খালেক বলেন, এখানে জনবলের সংকট রয়েছে, নিরাপত্তা কর্মী নাই, কম্পিউটার ও সিসি ক্যামেরাও নাই। তাই নানাবিধ সংকটের মধ্যেও দায়িত্ব পালন করছি আমরা।

এ ব্যাপারে কথা হয় হবিগঞ্জ রেঞ্জ এর সহকারী বন সংরক্ষক মো, মারুফ হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, রেঞ্জ অফিসটি কনস্ট্রাকশনের আওতাধীন আছে। করোনার কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। আগামী বছরের প্রথম দিকে হয়ত কাজ শুরু হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে সিলেট রেঞ্জ এর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমরা এ বিষয় এ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নতুন করে ভবন নির্মাণ করার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছি। আগামী বছরের প্রথম দিকে কাজ শুরু করা হবে আশা করছি।