• আজ সোমবার। গ্রীষ্মকাল, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৮:১৫মিঃ

চাঁদপুরে ফুলের মতো বিছানো বই আর বই!

৪:১৭ অপরাহ্ন | শুক্রবার, মার্চ ৫, ২০২১ দেশের খবর

মাহফুজুর রহমান, চাঁদপুর প্রতিনিধি: গাড়ির কারণে জ্যাম লাগতে তো আমরা সবাই দেখেছি। কিন্তু কখনো কি রাস্তায় বইয়ের জ্যাম লাগতে দেখেছেন? যাদের ইউরোপে যাওয়ার সৌভাগ্য কখনো হয়নি, তারা হয়তো একথা শুনে অবাক হয়েছেন।

দেশের বাহিরে যেটি “লিটারেচার ভার্সেস ট্রাফিক” নামে পরিচিত। সম্প্রতি বিদেশের মতো বাংলাদেশের খুলনাতেও অনুষ্ঠিত হয়েছে এই ভিন্নধর্মী উৎসব । তারই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুরেও এই উৎসবটি উদযাপিত হয়েছে ।

সড়কে ফুলের মতো বিছানো বই আর বই। চাঁদপুর শহরের ব্যস্ততম কাজী নজরুল ইসলাম সড়কে তখনো কর্মজীবী মানুষের পায়ের ছাপ পড়েনি। সকালের কোমল রোদে ঝলমল করছে হাজার হাজার বই। এ যেনো বইয়ের মেলা বসেছে, বলা যেতে পারে বই সড়ক। কিন্তু তা নয়, শহরের ব্যস্ততম এই সড়টিতে চলছে ‘পুঁথি সরণি উৎসব’।

যেখানে অসংখ্য শিক্ষার্থীরা আসছে, বই দেখছে আর হাতে তুলে নিচ্ছে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই বই পড়ছে তারা। তাদের পাশে একে একে দাঁড়াতে শুরু করেছেন তরুণ-তরুণী-যুবারাও। বইপ্রেমী বর্ষীয়ানরাও ভিড় জমিয়েছেন এই উৎসবে। পছন্দ হলেই দুটি বই নিতে পারছে সঙ্গে। তাও আবার বিনামূল্যে! কেউবা আবার স্বেচ্ছায় একাধিক বই রেখে এই আয়োজনে সহযোগিতা করছে। বই সড়কের এমন দৃশ্য দেখা যাবে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত।

চাঁদপুরে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী চিন্তা-চেতনার আলোকে সকলকে বই পড়ার সুযোগ প্রদানের উৎসাহ নিয়ে ‘পূর্ণয়’ নামে সংগঠনের আয়োজনে এবং এনসিটিএফের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হলো পুঁথি সরণি উৎসব।

বৃহস্পতিবার সকালে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সামনের ব্যস্ততম কাজী নজরুল ইসলাম সড়কে অনুষ্ঠিত এ পুঁথি সরণি উৎসবের উদ্বোধন করেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল।

সারাদেশের মানুষের মাঝে চাঁদপুর জেলাকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরার লক্ষ্যে চাঁদপুরের উদীয়মান সাহিত্যপ্রেমী একঝাঁক তরুণ-তরুণী লিটারেচার ভার্সেস ট্রাপিকের আদলে এই পুঁথি সরণি উৎসবের আয়োজন করে। তাদের মূল লক্ষ্য সকলের মাঝে শর্তহীন বিনামূল্য বই তুলে দেয়া এবং সকলকে বই পড়ার সুযোগ করে দেয়া।

উদ্যোক্তারা জানান, ‘একদল উজ্জীবিত কিশোর- কিশোরীর প্রচেষ্টায় কাজ করে যাচ্ছে ‘পুর্ণয়’ । রাস্তায় ছড়ানো থাকবে বই এবং সেখান থেকে আপনি আপনার পছন্দের বইটি বেছে নেবেন। এভাবে আপনার সাথে আপনার অন্য পাঠকের বইয়ের বিনিময় হবে। আমরা চাই সাহিত্য ছড়িয়ে পড়ুক প্রত্যেকটা মানুষের দ্বারপ্রান্তে এবং বাসা বাধুক অন্তরের গহীন কোণে।

তারা জানায় ‘বই বিনিময় উৎসবকে সফল করতে একজন বই প্রেমী হিসেবে নিজে অংশগ্রহণ করুন,অন্যকেও অংশগ্রহণে উৎসাহিত করুন। বইয়ের কথা ছড়িয়ে পড়ুক শহর নগর বন্দরে।

স্মার্টফোনের ফাঁদে আটকে থাকা বর্তমান প্রজন্মকে বই পড়ার প্রতি আকৃষ্ট করতে এ উৎসবের আয়োজন করেছে ‘পূর্ণয়’। পূর্ণয়ের সভাপতি সিয়াম পাটোয়ারী বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের হাতে শর্তহীন বিনামূল্য বই তুলে দেয়া এবং সকলকে বই পড়ার সুযোগ করে দেয়া। সারাদেশের মানুষের মাঝে চাঁদপুর জেলাকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরার লক্ষ্যে এই আয়োজন।

সংগঠনের সহ-সভাপতি তানজিলুল হামিম বলেন, বই মানুষের অন্যতম ভালো বন্ধু। বই ব্যক্তিকে আলোকিত করে। তাই বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ক গাঢ় করতেই আমাদের এই আয়োজন।

এনসিটিএফ চাঁদপুর এর সভাপতি আঞ্জুমান আরা আফসা বলেন, এখান থেকে পাঠকের হাতে শর্তহীন বিনামূল্য বই তুলে দেয়া এবং সকলকে বই পড়ার সুযোগ করে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।

বইপ্রেমী একজন পাঠক সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, বই আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। আর বইমেলা বাঙালি সংস্কৃতির অংশ। রাজধানী ঢাকার পরেই সবচেয়ে বড় বইমেলা উদযাপন হলেও বড় পরিসরে বই নিয়ে তেমন কোন আয়োজন চোখে পড়েনা।

তিনি আফসোস করে বলেন, বর্তমান ফেসবুক ইন্টারনেটের যুগে যুব সমাজ বইপড়া থেকে অনেক দুরে চলে যাচ্ছে। ছেলে-মেয়েরা বই পড়তেই চায়না। তারা শুধু নেট নিয়ে বসে থাকে। বইপড়া শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে। তাই এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসিত।