সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৭শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে উগান্ডারও পেছনে বাংলাদেশ

৪:০৪ অপরাহ্ন | রবিবার, মার্চ ৭, ২০২১ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
internet

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক- ইন্টারনেট গতি মাপার আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ওকলার এক প্রতিবেদন বলছে, মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বিশ্বের ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৬ নম্বরে। তবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশ ১৭৫টি দেশের মধ্যে ৯৬ নম্বরে অবস্থান করছে।

একটি দেশে মোবাইল ও ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি কেমন, সেটি নির্ধারণে ‘স্পিডটেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্স’ নামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ওকলা। তাদের সর্বশেষ জানুয়ারি মাসের প্রতিবেদনে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের গড় ডাউনলোড গতি ১০ দশমিক ৫৭ এমবিপিএস এবং আপলোডের গতি ৭ দশমিক ১৯ এমবিপিএস।

প্রতিবেশী দেশের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশের পেছনে আছে শুধু আফগানিস্তান ১৪০ নম্বরে। আফ্রিকার দেশ উগান্ডা, সোমালিয়া, সুদান, জাম্বিয়া, ইথিওপিয়ার মতো দেশও মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ডাউনলোড গতি ৩৩ দশমিক ৫৪ এমবিপিএস এবং আপলোডের গতি ৩৩ দশমিক ৯৬ এমবিপিএস। ব্রডব্যান্ডের গতিতে প্রতিবেশী দেশের মধ্যে শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো।

শুধু ইন্টারনেটের ধীরগতি নয়, এর মূল্যও বাংলাদেশে বেশি। আর এর মধ্যেই আগামীকাল (৮ মার্চ) নতুন স্পেকট্রাম বরাদ্দের জন্য নিলাম আয়োজন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা কথা বলতে রাজি না হলেও মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে, যে পরিমাণ ইন্টারনেট গ্রাহক রয়েছে তার চাইতে স্পেকট্রাম বা তরঙ্গের পরিমাণ কম থাকায় ইন্টারনেটের গতি কম হচ্ছে। এজন্য সরকার এখন ব্রডব্যান্ডকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ইন্টারনেটের গতি নিয়ে ঢাকার শনির আখড়ায় বসবাস করা খায়রুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘আমি ফোরজি ব্যবহার করি। তবে ইন্টারনেটের গতি খুবই কম। এজন্য ইউটিউব চালাতে গেলে বাফারিং হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি আসে অনেক দেরিতে।’

করোনার কারণে গ্রামে গিয়ে ফ্রিল্যান্সারের কাজ করছেন নজরুল ইসলাম নামে একজন। তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রামে কোনো ব্রডব্যান্ড কানেকশন নেই। আমি বাধ্য হয়েই মোবাইল কোম্পানিগুলোর ইন্টারনেট ব্যবহার করি। কিন্তু গতি কম হওয়ার কারণে কাজ করতে খুবই অসুবিধা হয়।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার এ বিষয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরগুলোর যে পরিমাণ গ্রাহক রয়েছে, সে হিসেবে তাদের স্পেকট্রাম বা বেতার তরঙ্গ ব্যবহারের পরিমাণ কম। একটি সরু রাস্তা দিয়ে বেশি গাড়ি চলতে গেলে সেখানে তো কিছুটা সমস্যা হবেই। তাই সরকার এখন ব্রডব্যান্ডকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার মোবাইল ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। অপারেটরগুলোকে প্রতিনিয়ত নির্দেশনা দিচ্ছি।’