সুবর্ণচরের মানুষের কাছে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ জামাল উদ্দিন চৌধুরী

১২:৪৩ অপরাহ্ন | সোমবার, মার্চ ৮, ২০২১ গুণীজন সংবাদ
jamal

মোঃ ইমাম উদ্দিন সুমন, নিজস্ব প্রতিবেদক- জামাল উদ্দিন চৌধুরী, দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠান ‘ইবনে সিনা’র ডেপুটি ম্যানেজার। তার চেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন মানবতার সেবক।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার কৃতিসন্তান জামাল উদ্দিন চৌধুরী নানা অপ্রতুলতার মধ্যেও খুঁজে বেড়ান অসুস্থ এবং অসহায় মানুষের। যার কাছে ধর্ম-বর্ণ বলে পৃথক কেউ নন। সবাই তার কাছে আপন।

ইতিমধ্যেই নিজেকে জনগণের কাছে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন নিজ কর্মগুণে। লোকজন বিপদে-আপদে তার কাছে ছুটে যাচ্ছেন সাহায্য সহযোগিতার জন্য। এবং তার কাছ থেকে আশানুরূপ উপকারও পাচ্ছেন।

জানা যায়, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী দানবীর আলহাজ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন চৌধুরী দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠান ‘ইবনে সিনা’য় ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। দীর্ঘদিন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম, মেধা যোগ্যতা ও বিভিন্ন দায়িত্ব সফলভাবে পালন করার পর ইবনে সিনা কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি তাকে এই পদে পদোন্নতি প্রদান করেছেন। এর আগে তিনি সিনিয়র এসিসট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘ ৫ বছর সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আলহাজ মোঃ জামাল চৌধুরী ১৯৭৪ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারী সুবর্ণচর উপজেলার ৫নং চরজুবিলী ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত চৌধুরী সরকার ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ, তিনি জীবদ্দশায় সমাজ সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।

আলহাজ মোঃ জামাল উদ্দিন চৌধুরী ১৯৭৯ সালে সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী রব্বানিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় শিক্ষা জীবন শুরু করেন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ১৯৯০ সালে নোয়াখালী জেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ কারামতিয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি ও ১৯৯২ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

২০০০ সালে তিনি দেশের শীর্ষ স্থানীয় চিকিৎসা সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠান ‘ইবনে সিনা’য় এক্সিকিউটিভ পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। ২০০৫ সালে এ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার, ২০১৫ সালে সিনিয়র এসিসট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন, এবং সবশেষ ২০২১ সালের পহেলা মার্চ তিনি ডেপুটি ম্যানেজার পদন্নোতি পেয়েছেন। ছাত্র জীবনে তিনি যেমন মেধাবী ছাত্র ছিলেন, কর্মজীবনেও রেখে চলেছেন সফলতার সাক্ষর।

পারিবারিক জীবনে এক স্ত্রী ও তিন ছেলেকে নিয়ে সুখী জীবন পার করছেন তিনি। মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে শাকিব শাহরিয়ার বুয়েটে অধ্যায়নরত, মেজো ছেলে সাজিব শাহরিয়াদ ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল কলেজে ইন্টারে অধ্যায়নরত এবং ছোট ছেলে সামিদ শাহনেওয়াজ ঢাকা, মিরপুরের বশির উদ্দিন কলেজ থেকে এবারে এসএসসি পরিক্ষার্থী।

আলহাজ জামাল উদ্দিন চৌধুরী সুবর্ণচর উপজেলার মানুষের সেবা করার লক্ষে নিজ পিতার নামে প্রতিষ্ঠান করেন ‘চৌধুরী সরকার ফাউন্ডেশন’। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নিজ গ্রামে ৫৭ শতাংশ জায়গার ওপরে নির্মাণ করেন দৃষ্টিনন্দন ‘চৌধুরী সরকার জামে মসজিদ’ মোক্তব ও এতিম খানা (প্রস্তাবিত) এবং ২০ শতাংশ জমির উপর কবরস্থান নির্মাণ করেন।

চৌধুরী সরকার ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে অসংখ্য অসহায়, হতদরিদ্র মানুষকে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন সেই সাথে গরীব মানুষের চিকিৎসার জন্য দিয়েছেন নগদ অর্থ ও চিকিৎসা সেবা। তিনি চৌধুরী সরকার ফাউন্ডেশন ছাড়াও আলোকিত ব্লাড ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা, চরজুবিলী ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি, সুবর্ণচর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার উপদেষ্টাসহ বহু সামাজিক সংগঠনের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রচার বিমূখ এই মানুষটি বিগত ২০ বছরে সুবর্ণচরের চার শতাধিক শিক্ষিত বেকার যুবককে চাকুরির ব্যবস্থা করেছেন এবং তিন শতাধিকেরও বেশি ছাত্রছাত্রীকে নিজ গ্রামে এবং ঢাকায় রেখে পড়াশুনার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি।

এছাড়া সুবর্ণচরের অসুস্থ মানুষ ঢাকায় চিকিৎসা নিতে গেলে সবার আগে এগিয়ে আসেন মানবতার ফেরিওয়ালা খ্যাত জামাল উদ্দিন চৌধুরী। যিনি আর্থিক সহযোগিতা থেকে শুরু করে রোগীর খোঁজ খবর নেয়া, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা ও থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে তিনি থাকেন সবার আগে।

ভবিষ্যত পরিকল্পার বিষয়ে জানতে চাইলে আলহাজ জামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চৌধুরী সরকার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি পুরো সুবর্ণচর উপজেলা মানুষের সেবা করা, অসহায়দের মুখে হাসি ফোটানো, সুবিধাবঞ্চিতদেরকে লেখা পড়ার ব্যবস্থা, বেকারদের চাকুরীর ব্যবস্থা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। যা ছাদকায় জরিয়া হিসেবে থাকবে।

সুবর্ণচরে ডাক্তারি অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু এমবিবিএস পাশ করে বসে না থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নেয়া উচিত এবং শহরমুখী না হয়ে অন্তত প্রতি সপ্তাহে ১দিন সুবর্ণচরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত মানুষদের সেবা প্রদান করা উচিত।

‘তার পাশাপাশি প্রতিটি প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান যদি মানুষের কল্যাণে কিছু কিছু অর্থ দান এবং মানুষকে সেবা দানে এগিয়ে আসে তাহলেই আলোকিত সুবর্ণচর গড়া সম্ভব’ বলে মনে করেন কর্মগুণে আলো ছড়ানো আলহাজ জামাল উদ্দিন চৌধুরী।

সৈয়দ আবুল মকসুদ আর নেই

⊡ মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২১

একুশে পদক পাচ্ছেন ২১ বিশিষ্ট নাগরিক

⊡ বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২১

সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান আর নেই

⊡ সোমবার, জানুয়ারী ১১, ২০২১

২০২০ সালে যেসব গুণীজন হারিয়েছে বাংলাদেশ

⊡ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০২০