• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিঃ ৪ দফা দাবিতে শ্রমিকদের সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ

৫:২৩ অপরাহ্ন | সোমবার, মার্চ ৮, ২০২১ রংপুর
বিক্ষোভ

আব্দুল আজিজ, দিনাজপুর থেকে: করোনাকালীন দীর্ঘ প্রায় ৭ম মাস খনি এলাকার অভ্যন্তরে অবরুদ্ধ থাকার পর প্রধান ফটক খুলে বের হয়ে এসেছেন দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ৬০৪ জন শ্রমিক। এদিকে ৪ দফা দাবী নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন সকল শ্রমিকরা।

রোববার (০৭ মার্চ) রাত সোয়া ৮টার দিকে খনি থেকে একযোগে বের হয়ে আসেন ওই শ্রমিকরা। ফলে খনির কয়লা উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম জানান, বৈশ্বিক করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায় খনির কয়লা উৎপাদন। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কোভিড-১৯ পরীক্ষার মাধ্যমে এক হাজার খনি শ্রমিকের মধ্যে ৬০৪ জন শ্রমিককে ভেতরে রেখে খনির কয়লা তোলার কাজ শুরু হয়। করোনার কারনে তাদের বিধি-নিষেধ দিয়ে বাইরে বের হওয়া বন্ধ করে দেয় কতৃপক্ষ।

তারপর থেকে খনির ভেতর প্রায় ৭ মাস ধরে অবরুদ্ধ থাকেন শ্রমিকরা। কয়েকদিন আগে খনির প্রধান ফটক উন্মুক্তকরণসহ তিন দফা দাবিতে খনির ভেতরে বিক্ষোভ মিছিলসহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন করোনায় লকডাউনে থাকা শ্রমিকরা। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে খনির গেটে অবস্থান নেয় বাইরে থাকা শ্রমিকরাও।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রোববার বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামানের সঙ্গে প্রায় ৪ ঘণ্টা আলোচনা করেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকি, জেলা পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন বিপিএম (বার), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিদ কায়সার রিয়াদসহ কর্মকর্তারা।

তিনি আরও জানান, খনির প্রধান ফটক উন্মুক্ত করাসহ শ্রমিকদের দাবীর ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন ভেতরের শ্রমিকরা। তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বাহিরে থাকা শ্রমিকরাও। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বাধ্য হয়েই রোববার রাত সোয়া ৮টায় খনির প্রধান ফটকের পকেট গেট খুলে দিলে খনিতে কর্মরত ৬০৪ জন শ্রমিক বের হয়ে আসেন। কর্মরত সকল শ্রমিকরা খনি থেকে বের হয়ে আসায় খনির কয়লা উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে পরের দিন সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে ৪ দফা দাবী নিয়ে ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবে এসে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রায় এক হাজার খনি শ্রমিক ফুলবাড়ী শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম বলেন, খনির লকডাউন প্রত্যাহার করে সকল শ্রমিকদেরকে ভ্যাকসিন প্রয়োগের মাধ্যমে স¦ স¦ কর্মস্থলে যোগদান করাতে হবে এবং খনির প্রধান ফটক উন্মুক্ত করতে হবে, সকল শ্রমিকের প্রোফিট বোনাসসহ বকেয়া বেতন ভাতা ও উৎসব ভাতা প্রদান করাসহ শ্রমিকদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়।

আরো বলেন, তাদের এই দাবী না মানা পর্যন্ত তারা কাজে যোগদান করবেন না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা শামিম, মোস্তাফিজুর, মতিনুরসহ অন্যান্য শ্রমিকগণ।

এ ব্যাপারে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামানের সঙ্গে তার অফিসিয়াল মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।