• আজ রবিবার। গ্রীষ্মকাল, ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। দুপুর ২:২২মিঃ

শিশু নির্যাতনকারী সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা, জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

১:০৪ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, মার্চ ১১, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ
court

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- হাটহাজারীর মারকাজুল কোরআন ইসলামি একাডেমি মাদরাসায় মো. ইয়াসিন ফরহাদ (৭) নামে এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপে বিষয়ে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট ডিসি, এসপি ও ওসিকে রবিবারের (১৪ মার্চ) মধ্যে এ বিষয়ে তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ঘটনাটি নজরে আনলে বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি শাহেদ নুরুউদ্দীনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এসময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারের এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমিদ বাশার।

হাইকোর্ট তার আদেশে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, গ্রেফতার ও মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে কিনা এবং ফৌজদারি আইনে মামলা হয়েছে কিনা- এসব বিষয়ে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার শিশুকে চিকিৎসা ও নিরাপত্তা দিতে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানাতেও বলা হয়েছে।

এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমিদ বাশার জানান, শুনানিতে আদালত মন্তব্য করেছেন, এ ধরনের ঘটনা মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থার ইমেজ ক্ষুণ্ণ করেছে।

এদিকে শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষক ইয়াহহিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১০ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে রাঙ্গুনিয়ার সাফরভাটা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানান হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।

ওসি বলেন, ‘মামলা দায়েরের জন্য শিশুর মা-বাবাকে রাজি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি তারা রাজি না হন, তাহলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।’

জানা গেছে, হাটহাজারীর পৌর এলাকার মারকাজুল কোরান ইসলামি একাডেমি মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী শিশু ইয়াসিন। সোমবার (৮ মার্চ) বিকেলে মা পারভিন আক্তার ও বাবা মোহাম্মদ জয়নাল মাদরাসায় তাদের সন্তানকে দেখতে যান। কিন্তু ফেরার সময় ছোট্ট শিশুটি মা-বাবার সঙ্গে বাড়ি যাওয়ার বায়না ধরে। এক পর্যায়ে সে মা-বাবার পিছু পিছু মাদরাসার মূল ফটকের বাইরে চলে আসে।

আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন মাদরাসার হুজুর ইয়াহহিয়া। মা-বাবার সঙ্গে মূল ফটকের বাইরে কেন গিয়েছে শুধু এই কারণে শিশুটিকে বেত দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। আর শিশুটি বাঁচার আকুতি জানাতে থাকে। তারপরেও ক্ষান্ত হননি ইয়াহহিয়া। অনবরত চলে তার পিটুনি।

এ সময় শিক্ষার্থীদের কেউ একজন ওই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করলে, নির্মম নির্যাতনের প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেন নেটিজেনরা।