• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

গেমে আসক্তি, মোবাইল কেড়ে নেওয়ায় নবম শ্রেণির ছাত্রের আত্মহত্যা

১:২৯ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, মার্চ ১১, ২০২১ রাজশাহী
lash

রাজিব আহমেদ রাসেল, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: করোনাকালীন স্কুল বন্ধ থাকায় মোবাইলে পাবজি, ফ্রী ফায়ারসহ প্রভৃতি গেমে আসক্ত হয়ে পড়ে ৯ম শ্রেণির ছাত্র মোঃ মোন্নাফ হোসেন। পরিবার যখন ছেলের উপর এই গেম খেলার আসক্তির খারাপ প্রভাব বুঝতে পারে ততোক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের অতিরিক্ত গেম খেলার কারণে মোবাইল কেড়ে নেওয়ায় মোন্নাফ হোসেন (১৬) নামের এক কিশোর শোয়ার ঘরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

মোন্নাফ হোসেন উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের শাহীন রেজার ছেলে ও শাহজাদপুর পাইলট মডেল হাইস্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র।

খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানার উপপরিদর্শক মোঃ শাহীন মাহমুদ সহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

নিহত মোন্নাফের স্বজনেরা জানান, মোন্নাফের পিতা শাহীন রেজা পাঁচ বছর প্রবাসে থেকে করোনার জন্য দেশে চলে আসে। মোন্নাফ খুবই মেধাবী ছাত্র ছিল। করোনা মহামারীর কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সে সারাক্ষণ মোবাইলে গেম খেলতো। গেম খেলার আসক্তি যখন অতিরিক্ত পর্যায়ে চলে যায় তখন মোন্নাফের বাবা মা এর কুফল বুঝতে শুরু করে।

এক সপ্তাহ পূর্বে শাহীন রেজা তার ছেলে মোন্নাফের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে নেয়। বুধবার ১০ মার্চ মোন্নাফ আবারও কাউকে না জানিয়ে মোবাইল নিয়ে গেম খেলা শুরু করে। মোন্নাফের বাবা বিষয়টি জানতে পেরে মোবাইলটি কেড়ে নেয় এবং গালাগাল করে। রাতে পরিবারের সাথে মোন্নাফ খাবার খেয়ে নিজ ঘরে গিয়ে শুয়ে পরে।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে মোন্নাফের মা ময়না খাতুন ছেলে মোন্নাফকে ডাকাডাকি করেও কোন সারা শব্দ না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে তার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায়। তার চিৎকারে বাড়ির মানুষজন এগিয়ে এসে জানালা (গ্রিল ছিলনা) দিয়ে ভেতরে ঢুকে ঘরের তীরের সাথে গামছা পেঁচানো ঝুলন্ত দেহ নামায়। ধারণা করা হচ্ছে মোন্নাফ অভিমানে রাতের কোন এক সময় ঘরের তীরের সাথে ও গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান জানান, খবর পেয়ে সাব-ইন্সপেক্টর শাহীন মাহমুদ খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়েছে। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।