ইয়াবা উদ্ধারে সহযোগিতা করায় যুবককে মাদক ব্যবসায়ীদের গুলি

৫:৩৩ অপরাহ্ন | শুক্রবার, মার্চ ১২, ২০২১ চট্টগ্রাম
Cox's Bazar news

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে দু’দিন আগে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারে করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এই উদ্ধার অভিযানে পুলিশে সহযোগিতা করার অপরাধে মোঃ শাহীন নামের যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেছে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা।

তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

তিনি সদরের পিএমখালী ইউনিয়নের বাংলাবাজার নয়াপাড়া এলাকার মৃত জহির আহমদ প্রকাশ জহির মেম্বারের ছেলে।

আহত শাহীনের ছোট ভাই শাহী কামরান জানান, গত সোমবার (৮ মার্চ) রাত ৮ টার দিকে পিএমখালী এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী বশির আহমদের বসতঘর থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করার সময় ডিবি পুলিশকে ওই ইয়াবা উদ্ধারে সহযোগীতা করে আহত শাহীন।

ওই ইয়াবার চালান আটকের পর পিএমখালী ইউনিয়নের ইয়াবা ও অস্ত্র ব্যবসায়ী একটি সিন্ডিকেট তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তারই ধারাবাহিকতায় গেলো রাত দেড়টার দিকে ‘জরুরি কথা আছে’ বলে ডেকে ডিকপাড়া সড়কে নিয়ে যায়। ওখানে নিয়ে প্রথমে গুলি, তারপর এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে।

কামরানের দাবী, ঘটনার সঙ্গে নুরুল আবছার (২৫), নুরুল ইসলাম (২৮), পুতিয়া (১৮), সাদেক (২৫), আজিজুল হক (৩২), ছৈয়দ নুর, মুবিন (২৫) আয়াত উল্লাহ (২০), জাহাঙ্গীর ভন (৩৫)সহ আরো অন্তত ৫ থেকে ৬ জন জড়িত বলে তার ভাই আহত শাহীন জানিয়েছেন।

শাহী কামরান আরোও জানান, প্রধান অভিযুক্ত নুরুল আবছার অস্ত্র, ইয়াবা ও ইয়াবা ছিনতাইয়ের মামলার আসামি। ওই এলাকা জুড়ে তার একটি বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে। সাদেকের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে। সে নারী নির্যাতন মামলার আসামি।

তবে, আহত মো. শাহীনের বিরুদ্ধেও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, গত সোমবার রাতে পিএমখালীতে ডিবি পুলিশের মাদক উদ্ধার অভিযানের পূর্বেই পালিয়ে যায় শীর্ষ কারবারি বশির আহমদ। সে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি জারুলিয়া ছড়ি উপর পাড়ার মৃত গোলাম শরিফের ছেলে।

দীর্ঘ দিন ধরে সে পিএমখালীতে ভাড়া বাসায় থাকতো। সেখানে গড়ে তুলে শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট। যা দীর্ঘ দিনের অনুসন্ধান ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় প্রশাসন।

অভিযানের দিন পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানিয়েছিলেন, বশির আহমদ একজন শীর্ষস্থানীয় মাদক কারবারি। কৌশলে বিভিন্ন জায়গায় সে মাদক পাচার করে আসছিল। গোয়েন্দা পুলিশ সঠিক তথ্য নিয়ে অভিযান চালায়। সে পালিয়ে গেলেও তাকেসহ অন্যান্য সহযোগিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মাদক বিরোধী অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান এসপি মো. হাসানুজ্জামান।