• আজ ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালী সুবর্ণচরে অনুপস্থিত বন্দোবস্তর বিরুদ্ধে ভূমিহীনদের ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন

১:৫৪ অপরাহ্ন | শনিবার, মার্চ ১৩, ২০২১ চট্টগ্রাম
Noakhali Human Chain News

মোঃ ইমাম উদ্দিন সুমন, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ  নোয়াখালী সুবর্ণচরে জেলা উপজেলা ভুমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ৫নং চর জুবলী ইউনিয়নের অর্ন্তগত ৯ নং ওয়ার্ডের চর মজিদ মৌজায়  ভূমিদস্যুদেরকে ভুমিহীনদের জায়গা জমি বাড়ী ঘর অনুপস্থিত বন্দোবস্ত, অনুপস্থিত রেকর্ড দেয়ার প্রতিবাদে ঝাড়ু মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও  মানববন্ধন করেছে অসহায় ভূমিহীন ও ভুক্তভোগী  প্রায় ২০০ পরিবার।

বিভিন্ন সময় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার না পেয়ে দীর্ঘ দিন ধরে এসব মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে আসছে তারা।

অভিযোগ পেয়ে গতকাল (১২ই মার্চ শুক্রবার) বেলা ১২ টায় সুবর্ণচর উপজেলা চর মহিউদ্দিনের রফিক কেরানী বাজারে সরজমিনে এসব ভুমি পরিদর্শন করতে আসেন নেয়াখালী জেলা সেটেলমেন্ট অফিসার রফিকুল ইসলাম ও পেশকার সাইফুল ইসলাম।  এসময় এলাকাবাসী জড়ো হয়ে অনুপস্থিত বন্দোবস্ত দেয়ার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও  মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে  প্রায় শত শত  হাজার নারী পুরুষ অংশ গ্রহন করে, এসময় আন্দোলনকারিরা  “ভুমহীনদের ভুমি ফিরিয়ে দাও, ফিরিয়ে দাও , ভুমি দস্যু মানিক মেম্বারের বিচার চাই বিচার চাই” তাদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে চর মহি উদ্দিন এলাকা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভূমি খেকো ভূমিদস্যু ১ নং চরজব্বার ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার নুর ইসলাম  মানিক মেম্বার, চরজুবিলীর বাসিন্ধা  সাহাব উদ্দিন আমিন ও চৌধুরী মহাজন অবৈধভাবে সুবর্ণচর উপজেলা ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ও তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নামে বেনামে ভূমিহীনদের বাড়ী ঘর, মসজিদের জায়গা, ডোবা, নালা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জায়গা, ভূমিহীনদের দির্ঘদিনের দখলীয় জায়গা অনুপস্থিতবন্ধবস্ত, অনুপস্থিরেকর্ড নেয়।

ভূমিহীন ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, ১৯৯৮/১৯৯৯ সালে আমরা ভূমিহীনরা সরকারি জায়গায় বসবাস শুরু করি, পরবর্তীতে ২০০৫/২০০৬ সালে সিডিএসপি মাঠ জরিপে দখল প্রমানিত হওয়ায় ভুমিহীন কয়েক শত পরিবারকে ভুমিহীন টোকেন স্লিপ প্রদান করে কিন্তু ভুমিহীনদের নামে খতিয়ান হওয়ার পূবেই অভিযুক্তরা উপজেলা ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকা উৎকোচের মাধ্যমে  ভূমিদস্যুরা  তাদের  নামে অনুপস্থিত বন্দোবস্ত, অনুপস্থিত রেকর্ড, খতিয়ান করে নেয়। এতে করে আমরা ভূমিহীনরা মাথা গোঁজার শেষ ঠাঁই টুকু নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ি।  তখন থেকেই আমরা বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করি এবং এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সংবাদ সম্মেলন,  প্রতিবাদ সমাবেশ করে আসছি”। অতিদ্রত ভ’মিদস্যুদরে নামে এসব অনুপস্থিত বন্দোবস্ত, অনুপস্থিত রেকর্ড বাতিল করে সরেজমিন তদন্তপূর্বক প্রকৃত ভ’মিহীরদেরকে বন্দোবস্ত ও রেকর্ড না দিলে তারা জেলা প্রশাসক র্কাযালয় ঘেরাও সহ অসহযোগ আন্দেলন করার ঘোষনা দেন।

সম্প্রতি তারা ঐসকল ভূয়া ও বানোয়াট খতিয়ান দেখিয়ে আমাদেরকে বাড়ী ঘর ছেড়ে দিতে হুমকি ধমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। এতে আমরা উচ্ছেদ আতংকে ভূগছি। আমাদের বসবাসকৃত  সুবর্ণচর উপজেলার ২৬৮নং চরমহিউদ্দিন মৌজার ১৭৯৮ দাগ বর্তমানে ৪১১৩দাগ আরেকটি হলো ৮৯ দাগ বর্তমানে ৩১৩৭ নং দাগ, সাবেক ৩০১ দাগ বর্তমানে ৫০৬৮, সাবেক ৩০১ দাগ বর্তমানে ৫২০৬,  সাবেক দাগ ৩০১ বর্তমানে ৪২০৭, সাবেক দাগ ৩০১ বর্তমানে ৪২০৮ মোট ৯ একর ভূমি  চৌধুরী মহাজন এবং সাহাব উদ্দিন আমিন অবৈধভাবে খতিয়ান করে নেয়।

 উপজেলার ২৭৫/৮৬ পশ্চিম চরজব্বার মৌজার খতিয়ান নং ৯১২ দাগ নং ৪০১/১৭৪,  বাটা ৪০১/১৯৬, ৪০১/২৩৪ দাগে ১ একর ৫০ ভূমিহীন দখলীয় খোকন ব্যাপারী,  মনির, আবু কালাম, শাহাজাহান, দেলোয়ার সোহাগসহ একাধিক পরিবারের উভয় তফসিলে মোট ১০ একর পঞ্চাশ জমি নুর হোসেন মানিক মেম্বার নথি সৃজন করে উচ্ছেদ এবং ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন।

চরমহিউদ্দিনের ভূমিহীন ইলিয়াস, খোকন, দেলায়ার, সালাহ উদ্দিন, আজিজ, কাশেম ও  শেখ হাসিনা ব্যারাকের হানিফ,  সাহাব উদ্দিন সেকান্তরসহ বহু পরিবারের  ১০০ একর ভূমি রেকর্ড করে নিয়ে যান সাহাব উদ্দিন আমিন।

উপরোক্ত অভিযুক্ত ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা ও উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের জন্য  ভূক্তিভোগীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নোয়াখালী ৪ আসনের মাননীয় সংসদসদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক, সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ভুমি কর্মকর্তা এবং চরজব্বার থানা সহ সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ভূমিহীন নেতা আবু কালাম সফি চৌধুরী,  ভূমিহীন নেত্রী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আমেনা বেগম, রফিক কেরানী, মনির উদ্দিন, দেলোয়ার, সাহাব উদ্দিন ভূমিহীন মনির আহম্মদ, ফয়েজ আহাম্মদ, নুরুল আমিন, জালাল আহমদ, সাহাব উদ্দিন, সেতারা খাতুন, নিজাম উদ্দিন প্রমূখ।

ভুমি পরদির্শন শেষে সেটেলমেন্ট অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা মাঠে এসে দেখে গেলাম বাকিটা অফিসে গিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।