• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ওবায়দুল কাদেরের কথায় আমরা কৌতুকবোধ করি: মির্জা ফখরুল

৩:৩২ অপরাহ্ন | শনিবার, মার্চ ১৩, ২০২১ জাতীয়
fokrul

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিনিয়ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কথা বলেন। তার কথায় আমরা সবাই একটু বিনোদন পাই, কৌতুকবোধ করি। তার কথা বলার ভঙ্গি খুব সুন্দর।’

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘তিনি (ওবায়দুল কাদের) গতকালও বিএনপির আন্দোলন সম্পর্কে কটাক্ষ করেছেন। কিন্তু প্রত্যেকদিন বিএনপিকে নিয়েই কথা বলেন। অন্যদিকে বলেন বিএনপি নেই। তাহলে প্রতিদিন বিএনপি সম্পর্কে কথা কেন বলেন? কারণ আপনারা জানেন, বিএনপি আছে, খুব ভালো করে আছে এবং আপনাদের উপর চড়াও হয়ে বসেছেন বলেই প্রতিদিন বিএনপি নিয়ে কথা বলেন।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বসে থাকার ভঙ্গি খুব সুন্দর। তিনি যে আসনে বসে কথা বলেন সেটাও খুব সুন্দর। তিনি দেখতে অত্যন্ত সুদর্শন মানুষ। চমৎকার কোটি পরেন, তার উপর নোকা মার্কার পিন পরেন। সেটা কীসের আমরা জানি না। পত্র-পত্রিকায় বের হয়েছে তার ঘড়িগুলো নাকি এক একটি ৩৬ লাখ, ৫২ লাখ, ১ কোটি— এরকম দামের। আসলে দাম কত আমরা সেটা জানি না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনাদেরতো লজ্জা হওয়া উচিৎ। বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক সাহেবের। আপনার এলাকা বসুরহাট, আপনার এলাকা নোয়াখালী সেখানে কি হচ্ছে? আজকে পত্রিকায় আসছে, সেখানে একজন সাংবাদিকসহ যে দুজন খুন হয়েছেন, তাদের মধ্যে মৃত শ্রমিকের ভাই মামলা করতে গিয়েছিল, কিন্তু পুলিশ তার মামলা নেয়নি। কাদের মির্জার বিপক্ষে মামলা নেয়নি। কারণ তিনিতো শুধু কাদের মির্জা নয়, তিনি বাংলাদেশের শক্তিশালী ক্ষমতাধর মানুষ ওবায়দুল কাদের সাহেবের ভাই। কোথায় বিচার, কোথায় ন্যায়ের শাসন? তাই আমি বলেছি, বিএনপির সমালোচনা করার আগে আপনারা আপনাদের নিজের ঘর সামলান। প্রতিদিন যে মারামারি-লড়ালড়ি তা সামলান।

ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ কখনোই জনগণের বন্ধু ছিল না। আমার দুঃখ হয় যে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান আমলে দেখেছি আমাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণতন্ত্রের সংগ্রাম করেছেন। আজকে আমাদের এখানে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাহেব উপস্থিত আছেন। তিনি ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন, ভিপি ছিলেন। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের যে ভূমিকা আজকে তিনিও সেখানে থাকতে পারেননি। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের চরিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আজ তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় এসেছে, তখনই অত্যন্ত সচেতনভাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃতি ইতিহাসকে বিকৃত করেছে। মাত্র একটি ফেয়ার তারা বলতে চেয়েছেন; পুরা স্বাধীনতার জন্য একটি পরিবার, একটি গোষ্ঠী, একটি রাজনৈতিক দল কৃতিত্বের দাবিদার। এটা সত্য নয়।

রক্তদান কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থানীয় কমিটির সদস্য মীর্জা আব্বাস, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সদস্য সচিব মো. আব্দুস সালাম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চিকিৎসাসেবা কমিটি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটি সদস্য সচিব ডা. হারুন আল রশিদসহ প্রমুখ।