সংবাদ শিরোনাম

‘তালা ভেঙ্গে মসজিদে তারাবি পড়ার চেষ্টা্’‌, পুলিশের বাধায় সংঘর্ষে মুসল্লিরা‘লঘু পাপে গুরু দণ্ড’; তিনটি মুরগি চুরির দায়ে দেড়লাখ টাকার জরিমানা চার তরুণের!কুড়িগ্রামের সবগুলো নদ-নদী শুকিয়ে গেছে, হুমকীতে জীব-বৈচিত্রহেফাজতের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তারমধুখালীতে বান্ধবীর সহায়তায় অচেতন করে দফায় দফায় ধর্ষণের শিকার নারী!বাসস্ট্যান্ডে প্রকাশ্যে চায়ের স্টলে ইতালি প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যাগোবিন্দগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দূঘর্টনায় স্কুল শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহতময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ডুবে মারা গেলো ৩ শিশুমুহুর্তেই ভয়াবহ আগুন! স্কুলেই পুড়ে মরলো ২০ শিশু শিক্ষার্থী!সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু আর নেই

  • আজ ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মেয়াদের শেষ দিনেও আসেনি পূর্ণ উপাচার্যের মর্যাদা

৬:০২ অপরাহ্ন | রবিবার, মার্চ ১৪, ২০২১ শিক্ষাঙ্গন
banu

নিজস্ব প্রতিবেদক: উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির যোগ্যতা নিয়ে আপত্তি থাকায় ইউজিসি ও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পূর্ণ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ না পেয়ে কখনো ভারপ্রাপ্ত, কখনো চলতি দায়িত্ব পদে বহাল থেকেই মেয়াদের পুরো চার বছর সম্পন্ন করেছেন সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ডাঃ লায়লা পারভীন বানু।

রবিবার (১৪ মার্চ) অফিস করা শেষে তার মেয়াদ শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ ডা. লায়লা পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে। একই বছরে উপাচার্য হিসেবে ডা. লায়লা পারভীন চলতি দায়িত্ব গ্রহণ করলে ২০১৭ সালের ৯ আগস্ট ইউজিসি এক চিঠিতে তাঁকে ওই পদে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইউজিসির ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তখন হাইকোর্টে রিট করে। ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর ৩১ ধারা অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে অধ্যাপক ডাঃ লায়লা পারভীন বানুকে নিয়োগে সহায়তা দানের নির্দেশ দিয়েছিলো হাইকোর্ট। তবে ইউজিসির পুনরায় আপিলে তা আবারো আটকে যায়, যা এখনো চলমান রয়েছে।

উপাচার্যের বৈধতা সংক্রান্ত জটিলতায় পুরো চার কোনো সমাবর্তন হয়নি। ইউজিসির ওয়েবসাইটে উপাচার্যের পদ শূন্য থাকায় শিক্ষার্থীদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়, যা এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ঠেলে দেয়। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বৈধ উপাচার্যের দাবিতে ২০১৯ সালের এপ্রিল মাস থেকে লাগাতার ৬৮ দিন আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে খুব দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে আন্দোলন বন্ধ করলেও মেয়াদকালের শেষ দিনেও কোনো সমাধান না আসায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের নানা অসুবিধা, ভোগান্তি আর বৈধ উপাচার্য না থাকায় সমাবর্তনসহ আরও অনেক কিছু আটকে আছে বলে মন্তব্য করেন বৈধ উপাচার্যের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়ে উঠা সংগঠন গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ ছাত্র পরিষদের সভাপতি মোঃ রনি আহম্মেদ। তিনি বলেন, ‘ম্যাম চলতি বা ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার্থীদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। বৈধতা না থাকায় শিক্ষার্থীরা মূল সনদ পায়নি, বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হয়েছে, সমাবর্তন পায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘উনার বৈধতার জন্য যখন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলো, তখন বৈধতা না নিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে আসবেনা বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু বৈধতা ছাড়াই আবার তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে চেয়ারে বসে আছেন। আমরা মনে করি, আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে অন্তত এখন তার মেয়াদ শেষকালে অবসর নেওয়া উচিত। তিনি সহযোগিতা করে একজন নতুন বৈধ ভিসি এনে দিলে তার কাছে শিক্ষার্থীরা কৃতজ্ঞ থাকবে।’

পূর্ণাঙ্গ উপাচার্যের প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করে ডাঃ লায়লা পারভীন সম্পর্কে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. নজরুল ইসলাম রলিফ বলেন, ‘ভিসি হিসেবে ম্যাম অনেক ক্ষেত্রেই অনেক বাঁধার মুখোমুখি হয়েছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৈধ উপাচার্যের দাবিতে টানা ৬৮ দিন আন্দোলন করলো। উনার পদত্যাগ চাইলো। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। উনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, ব্যক্তি হিসেবেও তার কোনো ঝামেলা নেই। তবে আমরা চাই একজন পূর্ণাঙ্গ ভিসি। উনি পূর্ণাঙ্গ ভিসি হিসেবে আসলে শিক্ষার্থীরা উনাকেও খুব ভালোভাবে গ্রহণ করবে।’

চলতি বা ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্বে ডাঃ লায়লা পারভীন বানুর মেয়াদকাল কেমন ছিল, জানতে চাইলে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বিদায়ী সহ-সভাপতি (ভিপি) মোঃ জুয়েল রানা বলেন, ‘ম্যাম মানুষ হিসেবে সৎ। ছলচাতুরি বুঝে না, করেও না। তবে ক্যাম্পাসের সব কিছুতেই তার ভূমিকা ছিল খুবই ক্ষীণ! তাই উনার মেয়াদকালে শিক্ষার্থীরা বৈধ উপাচার্যের দাবিতে আন্দোলন করলো। দীর্ঘ সময় শিক্ষার্থীদের ক্লাস, প্রশাসনিক কাজসহ প্রায় সব কিছুই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি শিক্ষার্থীদের একটা সেমিস্টারের প্রায় অর্ধেক সময় গ্যাপ হয়ে গেল! এতে কিন্তু ক্ষতিটা শিক্ষার্থীদেরই হলো। আগে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে যে আর্থিক সহযোগিতা পেত, তার সবই এই সময়ে প্রায় বাতিল হয়ে গেছে।’

মেয়াদ শেষের পরও ডা: লায়লা পারভীন চলতি দায়িত্বে বহাল থাকবেন কি না, জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। কেননা আপনি যেটা বললেন (মেয়াদ শেষ), সে বিষয়ে আমি জানিনা।’

তবে মেয়াদ শেষের বিষয়টি মানতে নারাজ উপাচার্য (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ডা: লায়লা পারভীন বানু। তিনি বলেন, ‘ভিসি হিসেবে আমার চার বছর হলো, এটা কোথায় তোমরা পেয়েছো? আমাকে অ্যাপয়েন্ট করেছে ট্রাস্টি বোর্ড। ট্রাস্টি ছাড়া ভিসি আসতে পারেনা। আমার নিয়োগ কিভাবে হলো, মেয়াদ শেষ কবে হবে, এটা তারা বলবে।’