• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রক্তাক্ত মিয়ানমার, একদিনে নিহত ৩৯ বিক্ষোভকারী

১০:৫৫ পূর্বাহ্ন | সোমবার, মার্চ ১৫, ২০২১ আন্তর্জাতিক
Myanmar

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- মিয়ানমারে চলমান অভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভে সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন গেল। জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে রোববার (১৪ মার্চ) ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে শিল্প এলাকা বলে পরিচিত হ্লায়াইং থারইয়া ২২ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

এর আগে ৩ মার্চ দেশটিতে সবচেয়ে বেশি ৩৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়াঙ্গুনের হ্লায়াইং থারইয়া এলাকায় রোববার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এ সময় ছুরি ও লাঠি হাতে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। এরপর সংঘর্ষ শুরু হলে তাদের ওপর গুলি ছোড়ে নিরাপত্তাবাহিনী।

এক চীনা ব্যবসায়ীর ওপর হামলার পর এলাকাটিতে সামরিক আইন জারি করেছে জান্তা সরকার। এদিকে সেনাবাহিনীকে চীন সমর্থন দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিক্ষোভকারীরা।

হ্লায়াইং থারইয়া হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। গুরুতর আহত লোকজনকে এখনও হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, রবিবার দিনভরই হ্লাইং থারিয়ার এলাকায় গুলির শব্দ পাওয়া গেছে এবং সড়কগুলোতে সেনাবাহিনীর ট্রাক টহল দিতে দেখা গেছে।

এক চিকিৎসক সাংবাদিকদের বলেন, ‘চিকিৎসা দেওয়ার সময় তিনজন আমার চোখের সামনেই মারা যান। আরো দুইজনকে আমি অন্য একটি হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এই মুহূর্তে আমি এটুকুই বলতে পারি।

পুলিশ হ্লাইং থারিয়ার এলাকায় ভারি অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে জানান এক পুলিশ কর্মকর্তা।

রাষ্ট্রায়াত্ত টেলিভিশনে বিক্ষোভে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত এবং আরো তিন জন আহত হওয়ার খবর দেয়া হয়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি বেসামরিক সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখলে নেয় সামরিক বাহিনী। ২০২০ সালের নভেম্বরে দেশটির সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি)। কিন্তু ভোটের ফলাফল সামনে আসার পর থেকেই নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ আনে সেনাবাহিনী।

এই অভিযোগ এনেই বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং সু চিসহ তার দলের বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। এরপর থেকেই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে মিয়ানমার। জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেমেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, চিকিৎসকসহ দেশটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এদিকে বিক্ষোভ থামাতে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অপরদিকে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে লুকিয়ে থাকা রাজনীতিবিদরা ঘোষণা দিয়েছেন, সামরিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রাম চলবে। তারা নিজেদের মিয়ানমারের বৈধ সরকার বলে দাবি করেছেন।

লুকিয়ে থাকা রাজনীতিকদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটির প্রধান মাহন উইন খিয়াং থান বলেছেন, ‘এটা জাতির জন্য সবচেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন মুহূর্ত। তবে খুব তাড়াতাড়ি আলোর দেখা পাওয়া যাবে।’

একদল সংসদ সদস্যকে নিয়ে লুকিয়ে রয়েছেন খিয়াং থান, যারা গত মাসের অভ্যুত্থান মেনে নেননি। এনএলডির যে এমপিরা গ্রেফতার এড়াতে পেরেছেন, তারা পালিয়ে নতুন একটি গ্রুপ তৈরি করেছেন, যার নাম কমিটি ফর রিপ্রেজেন্টিং পাইডুংসু হলত্তু (সিআরপিএইচ)। দলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাহন উইন খিয়াং থান। মিয়ানমারের বৈধ সরকার হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি করছে সিআরপিএইচ।