• আজ শুক্রবার। গ্রীষ্মকাল, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৬:০৮মিঃ

বার বার হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার ডেকে আনবে বিপদ!

⏱ | শুক্রবার, মার্চ ১৯, ২০২১ 📁 ফিচার
Helth news

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক:  হ্যান্ড স্যানিটাইজার করোনার আগেও ব্যবহার করত মানুষ কিন্তু এখন একটু বেশিই ব্যবহৃত হয়। এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বলা হচ্ছে যতবার হাত পরিষ্কার রাখা যাবে ততটাই ভালো, কিন্তু কথায় কথায় হাত ধোয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতে ঘষেই চলছে দেদার হাত পরিষ্কার রাখার কাজ, কিন্তু এর বেশি ব্যবহার যে কত ক্ষতি করতে পারে টা জানা আছে কী? স্কিন ক্যন্সার পর্যন্ত হতে পারে। রয়েছে আরও মারাত্মক সব কু-প্রভাব।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছিলেন কিছুক্ষণ পর পর সাবান বা অন্তত ৭০% অ্যালকোহল সমৃদ্ধ স্যানিটাইজার দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে তাই কিছুক্ষন অন্তর চলছে এই কাজ। ঘুরতে , ফিরতে, উঠতে , বসতে স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার পর্ব চলছে। তাতে আপাত দৃষ্টিতে ভালো মনে হলেও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা ব্যাপক।

এতে টক্সিক পদার্থ অত্যন্ত বেশিমাত্রায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। অন্যতম বেনজেথোনিয়াম ক্লোরাইড, ট্রিকলোসানের মতো ক্ষতিকর উপাদান। ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, অ্যালকোহলসমৃদ্ধ হ্যান্ড স্যানিটাইজারের অতিমাত্রায় ব্যবহারে চামড়ায় লালচে দাগ, শুষ্কতা, ফেটে যাওয়া এমনকি চুলকানি ও ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সমস্যা ১) একজিমা – ঘন ঘন হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহারে একজিমা হতে পারে। সেজন্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি শুষ্কতার কবল থেকে বাঁচতে ত্বকে ময়েশ্চেরাইজার (যেমন- মিনারেল অয়েল, পেট্রোলিয়াম জেলি) ব্যবহার করা যেতে পারে।

সমস্যা ২) ত্বকের জ্বালাপোড়া – হ্যান্ড স্যানিটাইজারগুলো মূলত এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক। মার্কিন কসমেটিক কেমিস্ট ভানেস্সা থমাসের মতে, “হ্যান্ড স্যানিটাইজারের প্রাথমিক উপাদান হলো ইথাইল অথবা আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল। এর সঙ্গে সফেনার এবং সুগন্ধি মিশিয়ে বাজারজাত করা হয়। ঘন ঘন এর ব্যবহারে ত্বকে জ্বালা এবং শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। এর মূল কারণ অ্যালকোহল। তাই জীবাণু ধ্বংসের জন্য হালকা গরম জল এবং সাবানই সর্বোত্তম উপায়।

সমস্যা ৩) প্রজনন ক্ষমতার ওপর প্রভাব – বেশিরভাগ স্যানিটাইজারের মূল উপাদান অ্যালকোহল হলেও নন-অ্যালকোহলিক স্যানিটাইজারও পাওয়া যায় বাজারে। নন-অ্যালকোহলিক এসব পণ্যের প্রস্তুত করতে ব্যবহার করা হয় ট্রাইক্লোসান অথবা ট্রাইক্লোসানের মতো অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রজনন ক্ষমতা ও ভ্রুণ উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে ট্রাইক্লোসানের। পাশাপাশি এটি অ্যাজমার ঝুঁকিও বাড়ায়।

সমস্যা ৪) হরমোনের সমস্যা – যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) মতে, ট্রাইক্লোসান সমৃদ্ধ হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারে হরমোনজনিত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সমস্যা ৫) ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে তোলা – গবেষণায় দেখা গেছে, ট্রাইক্লোসান মানবদেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে দেয়।

সমস্যা ৬) শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধির ওপর প্রভাব – কিছু কিছু হ্যান্ড স্যানিটাইজারে অতিমাত্রায় সুগন্ধি যু্ক্ত করা হয়। এই সুগন্ধির মূল উপাদান থ্যালেট ও প্যারাবিনের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক। থ্যালেটের প্রভাবে শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং প্রজনন ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আর প্যারাবিনও হরমোন সমস্য, প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস, জন্মগত ত্রুটি এবং জনন কোষ তৈরির ওপর নেতিকবাচক প্রভাব ফেলে।

সমস্যা ৭) ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি – অ্যালকোহল সমৃদ্ধ হ্যান্ড স্যানিটাইজার অতিরিক্ত ব্যবহারের আরেকটি ক্ষতিকর দিক হল চামড়ার স্থায়ী ক্ষতি। এর ফলে ইনফেকশন দেখা দিতে পারে। এছাড়া, হ্যান্ড স্যানিটাইজার শরীরের জন্য উপকারী ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে মেরে ফেলে।

সমস্যা ৮) অ্যালকোহল পয়জনিং – বেশিরভাগ হ্যান্ড স্যানিটাইজারে অতিমাত্রায় অ্যালকোহলের উপস্থিতি শরীরে অ্যালকোহল পয়জনিংয়ের কারণ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই পণ্যের অতিমাত্রায় ব্যবহার বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা না বুঝে স্যানিটাইজার মুখে দেয় এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে।