সংবাদ শিরোনাম

খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় ফরিদপুরে দোয়াওবায়দুল কাদেরকে কোম্পানীগঞ্জে ঢুকতে না দেওয়ার ঘোষণা কাদের মির্জারকরোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন এমপি ফারুক চৌধুরীর মাফরিদপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে কলেজ শিক্ষার্থীর ওপর হামলামামুনুল হকের কথিত শ্বশুরকে নোটিশ দেওয়ায় আ.লীগ নেতাদের হত্যার হুমকির অভিযোগ!ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চম দফায় ৪৫ আসনে ভোটগ্রহন চলছেচিরকুট লিখে হাসপাতালের ১১তলা থেকে লাফিয়ে করোনা রোগীর আত্মহত্যা!একজন অভিভাবক হারানোর শোক অনুভব করছি : শাকিব খানবেনাপোল ও শার্শা সীমান্ত থেকে ৯ লাখ টাকার গাঁজাসহ ২ পাচারকারী আটককবরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

  • আজ ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

নদীকে খাল বানিয়ে কোটি কোটি টাকা ছয় নয়

৬:১২ অপরাহ্ন | শুক্রবার, মার্চ ১৯, ২০২১ সিলেট
Habigonj news

মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে এরাবরাক নামে একটি নদী। একটা সময় ছিল যখন নদীটি দিয়ে প্রবল স্রোতের সঙ্গে পাল উড়িয়ে চলত নৌকা। কিন্তু কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যেতে বসেছে নদীটি। প্রবল স্রোত তো দূরের কথা এখন শুষ্ক মৌসুমে নদীর চারপাশ শুকিয়ে গিয়ে হয়ে যায় খেলার মাঠ।

মৃত প্রায় এ নদীটিকে সম্প্রতি খাল দেখিয়ে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন কাজ শুরু হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় শুরু হয় তোলপাড়। এরপরই নদীটিকে খালে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষার দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠে স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন সংগঠন।স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীটিকে খালে পরিণত করে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্য ছিল একটি কুচক্রী মহলের।

জানা যায়, এরাবরাক নদীটিকে খাল দেখিয়ে ১০০ ফুট প্রস্থে নবীগঞ্জ উপজেলার বিছনারপাড় এলাকা থেকে উজানের দিকে ৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প (জাইকা-২)। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ৩১টি চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক দল বা এলজিএসকে কার্যাদেশ দেয় এলজিইডি। এরপর থেকে নদীর মধ্যে খাল খনন শুরু হয়। খাল খনন শুরুর পর দেখা যায় ১০০ ফুট প্রস্থ খাল খনন করে মাটি রাখা হচ্ছে নদীতেই। আর এতে মাত্র ১০০ ফুট জায়গা খনন হলেও বাকি নদী ভরাট হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় বর্ষা মৌসুসে নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা কমে আরো বিপদ ডেকে আনতে পারে নদীটি। এছাড়াও বর্ষার শুরুতে বোরো ফসলও তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

এদিকে, নদীটি রক্ষায় এরমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় লোকজনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন। তারা বলছেন, দ্রুত এই প্রকল্প বাতিল অথবা সংশোধন করে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করতে। অন্যথায় সব শ্রেণি পেশার মানুষদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এরাবরাক খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি কাজী সাহেদ বিন জাফর বলেন, কীভাবে এ প্রকল্প হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু জানি না। তবে প্রকল্পটিতে খাল হিসেবে দেখানো হয়েছে, আমরা সরকারি আদেশ বাস্তবায়ন করছি।

বাপা হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, গুটি কয়েক ব্যক্তি তাদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নদীর এমন ক্ষতি করেছে। যা মেনে নেয়া যায় না। এতে শুধু নদীর নয় স্থানীয় লোকজনও এর পরিণাম ভোগ করবে। তাই এ প্রকল্প বাতিল অথবা সংশোধন করার দাবি জানাই।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান হারুন বলেন, এরাবরাক নদীটির প্রশস্ততা অনেক বেশি। তাই নদীর পুরো অংশ প্রকল্পের আওতায় আনা যাচ্ছিল না। তাই প্রকল্পের আওতায় আনতেই এটিকে খাল উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল বাছির বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। প্রকল্পটি জনবান্ধব না হলে বা ডিজাইনে ভুল থাকলে সেটি সংশোধনের জন্য যা যা প্রয়োজন তা করা হবে।